ইংরেজিতে কথা বলার সহজ কৌশল

ইংরেজি স্পোকেন আয়ত্ব করার সহজ টিপস

আমার এক বন্ধু বিদেশ থেকে মাত্র ৬ মাস পর দেশে চলে আসে। সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিল পেটের তাগিদে কিন্তু সে দেশের আইন কড়াকড়ি হয়ে যাওয়াতে বাধ্য হয়ে ফেরত আসতে হল। কয়েক দিন পর তার সাথে দেখা। সে আমার সাথে আরবিতে অনায়াছে কথা বলতে লাগল কারণ আমিতো মাদ্রাসায় পড়ুয়া একজন কামিল পাশ লোক। আমি তার দিকে অপলক নেত্রে চেয়ে রইলাম তার ঝরঝর করে আরবি কথা শোনার কারণে। কিন্তু আমি তার মত আরবিতে এভাবে কথা বলতে পারি না অথচ সে জীবনে মাদ্রাসায় পড়েনি।

এই সামান্য আলোচনা শেষে আমরা বুঝতে পারলাম যে, কোনো ভাষায় মুখের ভাষা আদান-প্রদানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল শোনা তারপর বলা তথা বলতে চেষ্টা করা। পড়া আর লেখা হল অনেক পরের বিষয়।

ইংরেজি লিখতে যে রকম সুবিধা হয়, বলার সময় সেই সুবিধা আর থাকে না।

আজকের এই আর্টিকলে কিভাবে অতি সহজে কথা বলা শেখা যায় তারই একটি নাতিদীর্ঘ আলোচনার প্রয়াস চলাব।

শোনার প্রতি মনোযোগ দিন, তারপর বলা

বাচ্চারা তাদের মা-বাবার মুখে শোনা কথাগুলো অথবা আশে-পাশে উচ্চারিত ধবনি বা ধবনিসমূহ থেকে প্রথম কথা বলা শেখে। সে কথা বলার প্রতি বেশি মনোযোগী থাকে না। তার কেবল শোনার প্রতি আগ্রহ থাকে। তারপরও সে অল্প সময়ে নিজের মাতৃভাষা শেখে নেয়। আমরা যেমন ইংরেজি শিখতে বলার প্রেকটিস করি শিশুরা এমনটা করে না। তবুও তারা অনেক সহজে শেখে নেয় তাদের আশে-পাশের অনেক জটিল ও কঠিন শব্দ। তাই ইংরেজি কথা বলা শেখতে প্রথমে শোনার প্রতি মনোযোগ দিন।

ধাপে-ধাপে এগোন

বিখ্যাত একটি ইংরেজি গান আছে, যার প্রথম দু’টি লাইন এরকম- “Step by step, the longest march can be won, Many stones can from an arch, singly none.”

ধাপে-ধাপে এগোলেই কিছু জয় করা সম্ভব। জীবনের বেলায় যদি এই কথা খাটতে পারে, স্পোকেন ইংলিশের বেলায়ই বা খাটবে না কেন? ইংরেজি বলার ক্ষেত্রে কোন জায়গায় আপনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবেন, সেটা আপনাকে আগেভাগেই ঠিক করে নিতে হবে। সময়, অনুশীলন এবং ইচ্ছে ধীরে ধীরে শিখিয়ে দেবে সব কিছুই।

প্রথমত: জড়তা কাটান, দ্বিতীয়

স্পোকেন ইংলিশের ক্ষেত্রে ফ্লুয়েন্সি বা না আটকে স্বাভাবিকভাবে ইংরেজি বলতে পারার উপরই প্রথমে জোর দেওয়া উচিত। প্রথম ধাপ, ইংরেজি গড় গড় করে বলার চেষ্টা। তাতে নাই-বা থাকল গ্রামারের শুদ্ধতা, উচ্চারণের পারফেকশন! অন্যের কাছে আপনার বক্তব্য পৌঁছানোটাই সবচেয়ে আগে দরকার। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ধাপটাও দেখবেন ঠিকই হয়ে যাবে। 

পড়ার বাতিক

ইংরেজি বলার জন্য চাই ইংরেজি বই পড়ার অভ্যাস। বই পড়ার সঙ্গে ভাল ইংরেজি বলতে পারার সর্ম্পক কী? ধরুন, একটা ইংরেজি ছোটগল্প পড়ে আপনার পনেরোটি শব্দ অচেনা ঠেকল, কিন্তু গল্পের মূল কথা বুঝতে এতটুকু অসুবিধা হয়নি। এক্ষেত্রে সবক’টি অজানা শব্দ একটা খাতায় (অবশ্যই অর্থসহ) লিখে ফেলুন এবং বন্ধুর সঙ্গে আড্ডা দিতে দিতেই হোক কিংবা নিজের সঙ্গে আলাপচারিতায়, শব্দক’টি ইংরেজি বাক্যে ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। এটা নিয়মিত করতে পারলে ইংরেজি শব্দভান্ডার যে বাড়বে, সেটা হলফ করে বলা যেতে পারে। আর ইংরেজি লেখা পড়ার সময়, সে খবরের কাগজই হোক কিংবা কোন বই, বাক্যগুলো খুঁটিয়ে পড়ার চেষ্টা করুন। এতে ইংরেজির বিভিন্নরকম ব্যবহারও শিখতে পারবেন।

নিজের সঙ্গে কথা বলা

নিজে-নিজে কথা বললে ইংরেজি বলা অনেকটাই সহজ হয়। প্রথমে, আপনার পছন্দ মতো যে কোন একটি বিষয় নির্বাচন করুন। সামনেই আপনার প্রিয় বন্ধু।  সুতারাং জড়তা থাকার কোন প্রশ্নই নেই। এবার আপনার ভাবা বিষয়টি নিয়ে বলতে শুরু করুন। প্রথম প্রথম আয়না সামনে কথোপকথন চালিয়ে যান, তারপর জড়তা কেটে গেলে দেখবেন বন্ধুদের সঙ্গে দিব্যি ইংরেজিতে কথা চালিয়ে যেতে পারছেন। আর আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন বিদেশি যে বাংলা জানে না এমন ছেলেমেয়ে থাকলে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলুন, দেখবে আড্ডা চলছে ইংরেজিতেই!

ভাবা প্র্যাকটিস…

‘থিঙ্ক ইংলিশ, ড্রিম ইংলিশ, ইট ইংলিশ’ ব্যাপারটা বোধ হয় একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে, কিন্তু ইংরেজিতে কথা বলার সময় বাংলা থেকে অনুবাদ করে বলতে যাবেন না। এতে ইংরেজি শেখা তো হবেই না, শুনতেও বেশ খারাপ লাগবে। ইংরেজিতে কথা বলতে হলে ভাবতেও হবে ইংরেজিতেই।

দেখা,  শোনা, শেখা

ইংরেজি খবর শোনা, সিনেমা দেখা এবং গান শোনা। এতে ইংরেজি ভাষায় কান অভ্যস্ত হয়ে যাবে। এর ফলে ইংরেজি গান বা ফিল্ম উপভোগ করতে পারবেন, আবার উচ্চারণ, অ্যাকসেন্ট ইত্যাদিও ধীরে-ধীরে পরিষ্কার হয়ে যাবে। তবে একটা কথা, ফিল্ম বা গানের হুবহু নকল করার চেষ্টা না করাই ভাল। বিশেষ করে, আমেরিকান উচ্চারণের তুলনায় ব্রিটিশ ইংলিশ উচ্চারণ অনেক বেশি স্পষ্ট।

উচ্চারণের আদবকায়দা

উচ্চারণ শেখার ব্যাকরণকেই বলা হয় ফোনেটিক্স। যে কোনো ভাল অভিধানেই দেখবেন শব্দের পাশে উচ্চারণ দেওয়া আছে। অক্সফোর্ড অ্যাডভান্সড লার্নার্স ডিকশনারিতে প্রতিটি পাতার নীচে ফোনেটিক সিম্বল ও তার উচ্চারণ দেওয়া আছে। এটা বুঝতে পারলেই ইংরেজি শব্দের উচ্চারণ নিখুঁতভাবে করা সম্ভব। নিয়মিত প্র্যাকটিস করতে পারলে ইংরেজি বলতে তো পারবেনই, একই সঙ্গে চলে আসবে গ্রামারের শুদ্ধতা, উচ্চারণে পারফেকশন।

 ভুল এড়াতে

(ক) ইংরেজিতে প্রেজেন্ট পার্টিসিপল (অর্থাৎ ing যোগ করে) ব্যবহার করে কথা বলার বদভ্যাস আছে আমাদের অনেকেরই। যেমন- আমার মাথা ধরেছে বোঝাতে ‘I have a headache’ না বলে বললাম ‘I am having a headache!’ দ্বিতীয় বাক্যটি এড়িয়ে চলুন।

(খ) বাংলায় আমরা যেমন বলি, তার বড় বড় মানুষদের সঙ্গে ওঠাবসা কিংবা মানুষের ভিন্ন ভিন্ন রুচি, ঠিক তেমনই ইংরেজিতেও আমরা মাঝে মাঝে বলে ফেলি, People have different different tastes কিংবা I am facing big big problems. এরকম বাক্য ভুল এবং বড় ভয়ানক।

(গ) Also এবং only শব্দ দু’টির ব্যবহার নিয়েও রয়েছে অনেক সমস্যা । ধরুন, দুই বন্ধুতে কথোপকথন হচ্ছে একটা ছবি নিয়ে। দু’জনেরই ফিল্মটি ভাল লাগেনি। আমারও ভাল লাগেনি’ বোঝাতে একজন বলল I didn’t like it also. এটা ভুল, সঠিকটি হবে, I didn’t like it either. আর কথার শেষে only বলবেন না, বাক্যে এই শব্দের পজিশন সম্বন্ধেও সতর্ক থাকতে হবে। I have only a hundred taka note আর Only have a hundred taka note- এর মধ্যে কিন্তু অনেক ফারাক।

(ঘ) ইংরেজি বলার সময় কয়েকটি এক্সপ্রেশন ৯৯৯ জন বললেও আপনি এড়িয়ে চলুন। যেমন, you know, sort of, well ইত্যাদি। এদের ব্যবহার ভুল নয়, কিন্তু অপ্রয়োজনীয়।

(ঙ) অহেতুক শব্দ ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। এই উদাহরণটাই না হয় দেখুন । আমরা বাংলায় বলি, ‘আরে, চুপ করে আছিস কেন, বল না।’ এইটাই ইংরেজিতে অনেককে বলে, Why aren’t you talking? Tell me, no! শেষের এই ‘no’-টি কিন্তু এক্কেবারে অর্থহীন। এই পয়েন্টগুলো মাথায় রাখতে পারলে ইংরেজি শুনতেও ভাল লাগবে এবং নির্ভুলও হবে। আসলে, ‘ব্রোকেন ইংলিশ’ ব্যবহার করা ভালই কিন্তু সেটা যেন ভুলে ভরা না হয়, সেটা মাথায় রাখতে হবে। মুখের ইংরেজি হবে সহজ, কঠিন বা ভারী শব্দ বর্জিত এবং স্পষ্ট।

নির্ভুল ইংরেজি বলতে চাইলে

১. ইংরেজি বলা শিখতে হলে ভাষাটাকেও সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে হবে। অর্থাৎ, দিনের অন্তত কিছুটা সময় দেখা, শোনা এবং পড়ার ভাষা হবে ইংরেজি। চোখ-কান খোলা রাখলে সাইনবোর্ডের ইংরেজি বিজ্ঞাপন থেকেও অনেক কিছু শেখা যায়।

২. স্থানীয় খবরের চ্যানেল না শুনে ইংরেজি নিউজ শুনুন। এতে উচ্চারণ এবং বাক্য গঠন সর্ম্পকে পরিষ্কার ধারণা হবে। ব্রিটিশ চ্যানেল শুনে, দেশি চ্যানেলে ইংরেজি খবর শুনলে বেশি উপকার পাবেন। কারণ, নিউজ রিডারের উচ্চারণে অ্যাকসেন্টের বাড়াবাড়ি থাকে না।

৩. শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ছবি দেখতে পারেন, ইংরেজি গান শুনতে পারেন। গানগুলো গাইলে লিরিক্সটাও তাদের কাছে পরিষ্কার হয়ে যায়। এই পদ্ধতিতে ভাল উচ্চারণ শেখা যায়।

৪. ইংরেজি গল্পের বই, খবরের কাগজ নিয়মিত পড়তে হবে। নিয়মিত ইংরেজিতে কথা বলার দরকার না হলেও, প্র্যাকটিস বন্ধ করা চলবে না।

৫. ক্লাব তৈরি করতে পারেন শিক্ষার্থীরা, যেখানে সদস্যরা শুধু ইংরেজিতে কথা বলবে। কোন একটি বিষয় নিয়ে চলতে পারে তুমুল তর্ক-বিতর্ক। সপ্তাহে দু’-তিন দিন বসতে পারলেই যথেষ্ট। কোনরকম জড়তা ছাড়া।

৭. অধিকাংশ শিক্ষার্থী কিন্তু ইংরেজি জানে কিন্তু বলা বা লেখার সময় অনেকে ভুল করে ফেলে। এটা এড়ানোর জন্য কোনো নামী প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে স্পোকেন ইংলিশের কোর্স করতে পারেন।

৮. নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এরকম অনেকেই থাকে যারা দারুণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খুব সুন্দর করে ইংরেজি বলে। আপনি হয়তো সেসব শুনে মুগ্ধ। তবে এদের রোল মডেল ধরে নেওয়ার আগে কিন্তু একটু যাচাই করে নেওয়ার দরকার আছে। স্মার্টলি ইংরেজি বললেই সেটা নির্ভুল, এমনটা না-ও হতে পারে। তাই এক্ষেত্রে অন্তত যখন-তখন প্রভাবিত হয়ে যাবেন না।

৯. ইংরেজি স্পোকেন এর জন্য শব্দভান্ডার মজবুত করা প্রয়োজন। যার শব্দ ভান্ডার যত সমৃদ্ধ তার ইংরেজি স্পোকেন তত বেশি শক্তিশালী থাকবে এটাই স্বাভাবিক।

১০. বিভিন্ন বিষয়ের প্রতি বক্তৃতা শেখুন, ডায়লগ শিখুন। টেলিভিশনে প্রচারিত ইংরেজি বির্তক অনুষ্ঠানগুলো মনোযোগসহকারে দেখুন ও শুনুন। এছাড়া ইংরেজিতে দেয়া ভাষণ যেমন- শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ, জিয়াউর রহমানের ভাষণ, প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদের ভাষণ ইত্যাদি শুনতে পারেন।

পরিশেষে বলি, ইংরেজি স্পোকেন শেখার ক্ষেত্রে আগ্রহটাই সবচেয়ে বেশি মূলবান। মনে রাখবেন, ইংরেজি কথা বলতে শুরু করলে শতজনে হাজার নেগেটিব কথা বলবে। একটু ভুল হয়ে গেলেই বন্ধুরা হাঁসাহাঁসি করবে। এ সময় মন খারাপ করলে চলবে না। চালিয়ে যাবেন নির্দিধায়।

 Prepared By: Md Nazrul Islam Dulu

০১৭১৬-৩৮৬৯৫৮

What do you think?

0 points
Upvote Downvote

Comments

Leave a Reply

Loading…

0

Comments

0 comments

Tag Question তৈরি করার সহজ কৌশল

Causative-Verb- ব্যবহার করে বাক্য তৈরি করার নিয়ম