তৃতীয় অধ্যায়

লেখক: হযরত মাওলানা ক্বারী মো: নজরুল ইসলাম সাহেব, ভাদেশ্বরী। (এমএম, এমএ)

তৃতীয় অধ্যায় শুরু

বিশেষ দ্রষ্টব্য: সময়ের স্বল্পতাহেতু সকল আয়াত বা বাক্যের হরকত দেয়া সম্ভব হয়নি।

ইনশাহ আল্লাহ ধীরে ধীরে প্রতিটি আয়াত বা বাক্যের হরকত সংযোজন করা হবে তথা যের, যবর, পেশ সংযোজন করা হবে। তাই আপডেট পেতে সাথে থাকুন।

রোজগার বৃদ্ধি ও জীবিকা প্রাপ্তির আমল

আমি এই কিতাবটিতে বিভিন্ন আরবী, উর্দু, ফার্সী এবং বাংলা কিতাব হতে যাচাই-বাছাই করে অতি গুরুত্বপূর্ণ ৩০টি রোজগার বৃদ্ধির আমল সম্পর্কে আলোচনা করেছি। আশা করি আল্লাহপাক এই আমলগুলোর বদৌলতে আমাদের রোজগার বৃদ্ধি করবেন।

এক নং আমল

পবিত্র হাদীস শরীফে রাসূলে আকরাম (সাঃ) ইরশাদ করেন- “যে ব্যক্তি নিম্নলিখিত ৪টি কাজের অভ্যাস করবে সে ব্যক্তি কখনো দরিদ্র থাকবে না।” 
১. ভোর হবার সাথে সাথে ঘুম হতে উঠে বিছানা ত্যাগ করবে। 
২. নামাজের সময়ের আগে অযু করবে। 
৩. ঈশার ফরজ ও বেতের নামাজের পর কারো সাথে আর কোন কথা না বলে ঘুমিয়ে যাবে এবং 
৪. আজানের পূর্বে মসজিদে গিয়ে হাজির হবে।

অন্য এক হাদীসে আছে, রাসূলে আকরাম (সাঃ) থেকে বর্ণিত, হযরত সালমান ফারসী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, এমন ১০টি বিষয় আছে যাতে মানুষ সৌভাগ্যশালী হতে পারে। আর তাহলো-

১ সব সময় পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা,

২. আকীক পাথরের আংটি আঙ্গুলে পরিধান করা,

৩. বেশি বেশি করে আল্লাহর যিকির করা,

৪. বৃহস্পতিবার দিন হাত-পায়ের নখ কাটা,

৫. অন্ধ ও বিকলাঙ্গ লোকদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা করা,

৬. সর্বদা জুতা বা খড়ম ব্যবহার করা,

৭. মসজিদে ঝাড়ু দেয়া,

৮. ব্যবসা-বাণিজ্যে সততা রক্ষা করা,

৯. ধনী হলে হজ্ব আদায় করা, এবং

১০ উত্তম ফসলের চাষাবাদ করা।

দুই নং আমল

কোনো ব্যক্তি যদি বেকার হন এবং জীবিকা অর্জনের কোনো পথ না পান। তাহলে চাঁদের প্রথম বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারে রোজা রাখবেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত্রে শয়নকালে সূরা ইউসুফের আয়াত নং ৫৮-৫৬ তিলাওয়াত করবেন। অতঃপর জুমআর দিন জুমআ ও আছরের মধ্যবর্তী সময়ে উক্ত আয়াতে কারীমাগুলো লিখবেন। ইফতারের পর পুনরায় ইহা পাঠ করবেন। ঈশার নামাজের পর আরো ১ বার পড়বেন এবং শুইবার সময় বিছানা গিয়ে আরো ১ বার পড়বেন। তারপর নিচের নিয়মে তাছবীহ পড়বেন।

তাছবীহ পড়ার নিয়ম

১০০ বার (লাইলাহা ইল্লাল্লাহ), ১০০ বার (আলহামদুলিল্লাহ), ১০০ বার (সোবহান আল্লাহ), ১০০ বার (আল্লাহু আকবার), ১০০ বার (ইস্তেগফার) এবং ১০০ বার (দুরূদ শরীফ) পড়ে শুইয়ে থাকবেন। ভোরে ঘর হতে বের হয়েই উপরোক্ত আয়াতগুলোকে তাবীজরূপে শরীরে ধারণ করবেন। এবং দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করবেন যে, কখনো কারো উপর জুলুম করবেন না। হকের সীমা অতিক্রম করবেন না এবং না হকের দিকে পা বাড়াবেন না। এই আমলের পর ইনশাহ আল্লাহ সপ্তাহের ভিতরে অথবা তার কিছু বেশী সময়ের মধ্যেই কোন না কোন কাজ অবশ্যই জুটবে এবং জীবিকার উপায় হয়ে যাবে। উক্ত তাবিজ বালিশের নীচে রেখে শয়ন করলেও চলবে। আর ততোদিন অবশ্যই উপরে বর্ণিত তাছবীহ যথারীতি পড়তে হবে। (আমালে কোরআনী)


তিন নং আমল

এক ব্যক্তি আল্লামা শাহ আব্দুল আজিজ মুহাদ্দিসে দেহলভি (রঃ) এর নিকট প্রশ্ন জিজ্ঞেস করল যে, আমাকে জীবিকা বৃদ্ধির আমল বলে দিন? শাহ ছাবেব বয়ান ফরমালেন যে, চাশতের সময়ে ৪ রাকাত নফল নামাজ পড়বে এবং সালাম ফিরানোর পর সিজদা করবে এবং সিজদার মধ্যে ১০৪ বার (ইয়া ওয়াহহাবু) পড়বে। আর যদি এতো সময় না থাকে তাহলে ৫০ বার পড়বে। আর এটাও পরীক্ষিত যে, যে কোনো রাতে সূরা ওয়াকিয়া ২ বার পড়বে। প্রথম বার মাগরীবের নামাজের পর ১০০ বার (ইয়া মুগনীয়্যু) পড়বে। আর যদি সময় থাকে তাহলে উক্ত ইসিম মোবারক ১১০০ বার পড়বে। এবং সূরা মুজাম্মিল এশার নামাজের পর ২১ বার পড়বে আর যদি অধিক সময় না থাকে তাহলে ১ বার পড়বে। কিন্তু তিলাওয়াতকালে যখন

رب المشرك والمغرب لا اله الا هو فاتخذه وكيلا٠

উচ্চারণ- রাব্বুল মাশরীকি ওয়াল মাগরীবি লা ইলাহা ইল্লা হুয়া ফাত্তাখজহু ওয়াকিলা

আসবে তখন পড়বে-
حسبناالله ونعم الوكيل٠  

উচ্চারণ- হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিয়মাল ওয়াকিল,

৫০ বার পড়বে। তারপর সূরা তিলাওয়াত করে সমাপ্ত করবে। (কামালিয়াতে আজীজী)

চার নং আমল
সব ধরনের বিপদ দূর করার জন্য, রুজি-রোজগার বৃদ্ধির নিমিত্তে, শত্রু ও অহংকারীদের দুশমনি হতে রক্ষার উদ্দেশ্যে, বন্ধী ব্যক্তিকে মুক্ত করার মনোবাসনা নিয়ে এইভাবে আমল করবেন যে, প্রথমে ১০ বার দুরূদ শরীফ পাঠ করে সূরা মুজাম্মিল তিলাওয়াত করা আরম্ভ করবেন। পাঠ করতে করতে যখন تَبْتِيْللاَ শব্দে পৌছবেন তখন ৫০ বার নিচের আয়াত পড়বেন-

وَمَنْ يَّتَّقِ اللهَ يَجْعَلْ لَهُ مُخْرَجاَ  وَّيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لاَ يَحْتَسِبُ٠ وَمَنْ يَّتَوَكَّلْ عَلَی اللٰهِ فهُوَ حَسْبُه٠ اِنَّ اللٰهَ بَالِغُ اَمْرِهْ٠ قَدْ جَعَلَ اللٰهُ لِكُلِّ شَئٍ قَدْرًا٠

তারপর

رب المشرك والمغرب

পাঠ করার পর لا اله الا هو فاتخذه وكيلا٠ ১০০ বার পড়বেন। এবং যখন سَبِيْللاَ শব্দে পৌছবেন তখন ৫০ বার নিচের আয়াত পড়বেন-

ربنا انزل علينا ماﺌدة منك وارزقنا وانت خير الرازقين٠

তারপর যখন  قرضا  حسنا  আসবে তখন ২১ বার করে পড়বেন-

الا له الخلق والامر٠

الی اللٰهِ تصير الامور٠

পড়বেন। তারপর সূরা তিলাওয়াত করে সমাপ্ত করবেন। এবং আবার ১০ বার দুরূদ শরীফ পাঠ করে নিচের দোয়া পড়বেন।

سبحانك لا اله الا اللٰهُ يا حنانُ يا منانُ يا بديع السمٰواتِ والارضِ يا ذا الجلالِ والاكرامِ٠ اللهمَّ اكفنیِ بحلالكَ عن حرامكَ واغننیِ بفضلكَ عمَّنْ سِواك٠

তারপর সিজদায় গিয়ে কান্নাকাটি করে বিনীতভাবে নিজের উদ্দেশ্যের কথা আল্লাহ তায়া’লার কাছে প্রার্থনা করবেন। ইনশা আল্লাহ অতি সত্তর উদ্দেশ্য পূর্ণ হবে।  (কামলিয়াতে আজীজী)


পাঁচ নং আমল

রুজি-রোজগার বৃদ্ধি ও যে কোনো জায়েদ উদ্দেশ্য হাছিল করার জন্য সূরা ইয়াসিনের (দায়েরা আমল) হযরত মৌলভী হাজী মুহাম্মদ কলন্দর (কাদ্দাছা ছিররুহু) জালাল আবাদী (রঃ) নিচের আমল এর তরিকা বর্ণনা করেছেন। আমলের নিয়ম

বিসমিল্লাহসহ সূরা ইয়াসিন আরম্ভ করে যখন প্রথম মুবিন পর্যন্ত পড়বেন তখন ডান হাতের কনিষ্ট আঙ্গুল (সবচেয়ে ছোট আঙ্গুল) বন্ধ করবেন। তারপর বিসমিল্লাহসহ আবার সূরা ইযাসিন প্রথম থেকে তিলাওয়াত আরম্ভ করে যখন দ্বিতীয় মুবিন পর্যন্ত পড়বেন তখন কনিষ্ট আঙ্গুলের পরের আঙ্গুল বন্ধ করবেন। তারপর বিসমিল্লাহসহ আবার সূরা ইযাসিন প্রথম থেকে তিলাওয়াত আরম্ভ করে যখন তৃতীয় মুবিন পর্যন্ত পড়বেন তখন এর পরের আঙ্গুল বন্ধ করবেন। এভাবে ৫ম মুবিন পাঠ করা শেষ হলে ডান হাতের ৫টি আঙ্গুল বন্ধ হয়ে যাবে। এরপর বিসমিল্লাহসহ আবার সূরা ইযাসিন প্রথম থেকে তিলাওয়াত আরম্ভ করে যখন ৬ষ্ট মুবিন পর্যন্ত পড়বেন তখন বাম হাতের কনিষ্ট আঙ্গুল বন্ধ করবেন। এভাবে ৭ম মুবিন তিলাওয়াত করার পর ৭টি আঙ্গুল বন্ধ হয়ে যাবে । এখন আগের নিয়মে বিসমিল্লাহসহ সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াত করা আরম্ভ করে ১ম মুবিন পড়া শেষ হলে ডান হাতের কনুই আঙ্গুল (কনিষ্ট আঙ্গুল) খুলবেন। এভাবে একই নিয়মে ৭ম মুবিন পর্যন্ত পাঠ করবেন এবং ৭টি আঙ্গুল খুলবেন। তারপর বিসমিল্লাহসহ সূরা ইয়াসিন পুরোটা তিলাওয়াত করবেন এবং শেষবার তিলাওয়াতের সময় এভাবে পড়বেন: ইয়াসিন সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ইয়াসিন- ওয়াল কোরআনিল হাকিম। আমল শেষ করার পর নিজের হাজতের অথবা রিজিক বৃদ্ধির জন্য আল্লাহ পাকের দরবারে কায়মনে প্রর্থনা করবেন।  (বায়াযে মুহাম্মদী আসলী)

ছয় নং আমল

গায়িব হতে রুজি-রোজগার ও রিজিক বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ৭দিন নফল রোজা রাখবেন। এবং এই ৭ দিনের মধ্যে মোটেই মিথ্যা কথা বলবেন না এবং প্রতিদিন ঈশার নামাজের পর নিচের আয়াতে কারীমা ১০০০ বার পড়বেন। আয়াতে কারীমাটি হলো-

وعنده مفاتع الغيب لا يعلمها الا هو٠ ويعلم ما فی البر والبحر وما   تسقط من ورقة الا يعلها ولا حبة فى ظلمت الارض ولا رطب ولا يابس الا فى كتٰب مبين٠

উচ্চারণ- ওয়া ইনদাহু মাফাতিহুল গাইবি লা ইয়ায়লামুহা ইল্লাহুয়া, ওয়া ইয়ায়লামু মাফিল বাররি ওয়াল বাহরি, ওয়ামা তাছকুতু মিও ওয়ারাকাতিন ইল্লা ইয়ায়লামুহা ওয়ালা হাব্বাতিন ফি জুলুমাতিল আরদি ওয়ালা রাতবিও ওয়ালা ইয়াবিছিন ইল্লা ফি কিতাবিম মুবিন।

পড়ার শুরুতে ও শেষে ১১ বার করে দুরূদ শরীফ পড়বেন। তারপর ১০০০ বার ইয়া হাইয়ু, ১৫০ বার ইয়া ক্বাইয়্যুমু পড়বেন।

এক সপ্তাহ পর এই আমলের মুয়াক্কাল হাজির হবেন তখন মুয়াক্কালের নিকট থেকে ৫ দেরহাম অথবা ৫ রূপী নিয়ে নিবেন এবং নিজের পকেটের মধ্যে রাখবেন। এবং খরচ করতে থাকবেন। প্রতিদিন খরচ করার পরও আপনার ৫ দেরহাম অথবা ৫ রূপী থেকে যাবে। মাওলানা সাহেব বর্ণনা করেন যে, এই আমলটি আমি কিছু “দিয়ারে মাগরীবের আমিল” হতে হাছিল করেছি। (বায়াযে মুহাম্মদী আসলী)   (اللٰهُ اعلم )

সাত নং আমল
রিজিক বৃদ্ধির জন্য এই আমল উত্তম হবে যে, প্রতিদিন ৪ রাকাত নফল নামাজ পড়বে। তারপর সালাম ফিরানোর পর সিজদাতে যাবে এবং ১০০ বার (ইয়া ওহ্হাবু) পড়বেন। আর অধিক সময় না থাকলে ৫০ বার পড়বেন। কিন্তু কোনো দিন এই আমল করা বাদ পড়বে না। অর্থাৎ প্রত্যেক দিন একই সময়ে আমল করবেন। আর ফজরের নামাজের পর ১১০০ বার (ইয়া মুগনিইয়্যু)পড়বেন। যদি সময় না থাকে তাহলে ১০০ বার পড়বেন। এই আমল দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য উপকারী।  (কামালিয়াতে আজীজী)

আট নং আমল
“কওলুল জামিল” কিতাবে আল্লামা শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভি (র) লিখেছেন, প্রতিদিন (ইয়া মুগনিইয়্যু) ১১০০ বার এবং সূরা মুজাম্মিল ৪০ বার অক্ষম হলে ১১ বার রীতিমত তিলাওয়াত করলে রুজি- রোজগার বৃদ্ধি পায়। এবং মনের চিন্তা দূর হয়। এ বিষয়ে এটা খুবই পরীক্ষিত আমল। প্রতিদিন যত বেশী দুরূদ শরীফ পড়বেন, ততই মঙ্গল। কেননা দুরূদ শরীফ অত্যন্ত বরকতের জিনিস। এতে দ্বীন-দুনিয়ার উভয় দিকেরই উন্নতি হয়।

(আমালে কোররআনী) 
নয় নং আমল
যদি সম্ভব হয় তাহলে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর নিচের দোয়া ৪১ বার পড়বেন। আমলের শুরুতে ও শেষে ৩ বার দুরূদ শরীফ পাঠ করে ৪১ নিচের দোয়াটি পাঠ করলে আল্লাহ তা’য়ালা রুজি-রোজগারের অসংখ্য পথ খুঁলে দেন।

اَللٰهُمَّ   اِرْزُقْنِیْ رِزْقاً وَّاسِعاً حلالاً طيباً مباركاً٠ والحمد لِلٰهِ شُكْراً٠

(গনজিনায়ে আছরার)

দশ নং আমল
যদি কেহ তার রিজিকে অগ্রগতি ও উন্নতি চায় তাহলে সে যেন সূরা ওয়াকিয়া ও সূরা ইয়াসিন নিয়মিত পাঠ করে। আর যদি নিচের দোয়াটি পাঠ করে তাহলে আরো ভালো। ইনশা আল্লাহ্ তার উন্নতি, অগ্রগতি এবং কামাই-রোজগার বৃষ্টির মতো হবে। দোয়াটি হলো-

بسم اللٰهِ الرحمٰنِ الرحيم٠ سبحانَ اللٰهُ القادرُ القاهِرُ القوی الكافی يا حی يا قيوم لا حول ولا قوة الا بااللٰهِ العلی العظيم٠

কেহ যদি বেশি বেশি ইস্তেগফার পড়ে তাহলেও তার রিজিকের উন্নতি ও অগ্রগতি হবে। (হায়াতুল হায়াওয়ান)

এগার নং আমল
প্রথম দিনের চাঁদ দেখে সূরা মূলক তিলাওয়াত করলে পূর্ণ মাস শান্তিতে অতিবাহিত হয়। জীবিকা বৃদ্ধি পায়। দোয়া কবুল হয়। (আমালে কোরআনী)

বার নং আমল
ছোবহে ছাদিকের সময় সূরা ত্বাহা পাঠ করলে এবং দোয়া করলে নতুন নতুন জীবিকা পাওয়া যায়। সমস্ত মকছুদ পুরা হয় এবং মানুষের মন তার প্রতি আকৃষ্ট থাকে। (আমলে কোরআনী)
তের নং আমল
সূরা হিজর লিখে পকেটের ভিতর রাখলে কিংবা মানি ব্যাগের মধ্যে রাখলে জীবিকা বাড়ে। সবাই সম্মান করে এবং কেউ তার বিরুদ্ধাচরণ করতে সাহস পায় না । (আমালে কোরআনী)

চৌদ্দ নং আমল
সূরা কাহাফ (পারা-১৬) লিখে একটি বোতলে বন্ধ করে ঘরের মধ্যে রাখলে ঋণ ও দরিদ্রতা হতে মুক্ত হওয়া যায় এবং বাড়ীর সবাই নিরাপদে থাকে। (আমালে কোরআনী) 
পনের নং আমল
নিচের আয়াত প্রত্যেক নামাজের পর নিবিষ্ট চিত্তে অসংখ্য বার পড়বেন। এতে রিযিক বৃদ্ধি পায়। আয়াতটি হল-

اَللٰهُ لَطِيْف بعباده يرزق من يشاء وهو القوی العزيز٠

উচ্চারণ- আল্লাহু লাতিফুম বি ইবাদিহি ইয়ারজুকু মাইয়াশায়ু ওয়াহুয়াল ক্বায়ীয়ুল আজিজ।

(সূরা শুরা-আয়াত-১৯) (আমালে কোরআনী)

ষোল নং আমল
রমদ্বান মাসের চাঁদ দেখার সময় সূরা ফাতহ (পারা-২৬) পাঠ করলে সারা বছর খোশহালি থাকে। আল্লাহপাক অভাব-অনটন হতে মুক্ত রাখেন। (আমালে কোরআনী)
সতের নং আমল
কারো রুজি-রোজগার কমে গেলে এবং দরিদ্রতায় পতিত হলে প্রথমে সাচ্চা দেলে তওবা করে নেক কাম করার পাকা ইরাদা করবেন। অতঃপর জুমআর রাত্রের (বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত্র) অর্ধ রাত্রের সময় উঠে নিবিষ্টচিত্তে ১০০ বার ইস্তেগফার ও ১০০ বার দুরূদ শরীফ পাঠ করবেন। পরে উক্ত আয়াত ১০০ বার পড়ে শুয়ে থাকবেন। এই আমল করলে কিভাবে আপনার দরিদ্রতা দূর হবে তা স্বপ্নে দেখতে পারবেন। তদনুরূপ কাজ করলে ইনশা আল্লাহ দরিদ্রতা বিদূরিত হবে।

ومن قدر عليه رزقه فلينفق مما اٰتٰهُ اللٰه٠ لا يكلف اللٰه نفسا الا ما اٰتٰها٠ سيجعل اللٰه بعد عسرٍ يسراً٠

উচ্চারণ- ওমান কুদিরা আলাইহি রিজকুহু ফাল য়ুনফিক্বু মিম্মা আ-তা-হুল্লাহু লা য়ুকাল্লিফুল্লাহু নাফসান ইল্লা  মা আ-তা-হা, সাইয়াযআ‘লুল্লাহু বায়’দা উসরিই য়ুছরা।

(সূরা তালাকঃ আয়াত-৭) (আমালে কোরআনী) 
আটার নং আমল

হামেশা সূরা মুজাম্মিল (পারাঃ ২৯) তিলাওয়াত করলে জীবিকা উপার্জনের পথ বের হয় এবং মাল-দৌলত বৃদ্ধি পায়। (আমালে কোরআনী)
ঊনিশ নং আমল

সূরা আলে-ইমরান নিয়মিত পাঠ করলে ঋণ হতে মুক্তি লাভ হয়। প্রত্যেহ ৭ বার করে পাঠ করলে কর্জ দূর হয় এবং গায়েব হতে রুজির ব্যবস্থা হয়ে থাকে। (আমালে কোরআনী)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেছেন, রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি প্রত্যেক রাতে সূরা ওয়াকিয়াহ (পারা- ২৭) তিলাওয়াত করবে, তাঁর অভাব-অনটন হবে না।
বিশ নং আমল

বৃহস্পতিবারে কোনো সৌভাগ্যশালী লোকের কোর্তার টুকরায় এই আয়াত লিখে দোকানে, বাড়ীতে কিংবা বেচা-কেনার জায়গায় লটকিয়ে দিলে আয় খুবই বৃদ্ধি পায়। আয়াত হলো-

قل انَّ الفضلَ بيد اللٰه٠ يؤتيه من يشاء٠ واللٰه  واسع عليم٠ يختص برحمته من يشاء٠ واللٰه ذوالفضل العظيم٠

উচ্চারণ- কুল ইন্নাল ফাদলা বিয়াদিল্লাহ, উয়তিহি মাইয়াশায়ু ওয়াল্লাহু ওয়াছিয়ুল আ‘লীম, ইয়াখতাছছু বিরাহমাতিহি মাইয়াশায়ু ওয়াল্লাহু জুল ফাদলিল আ‘জীম) (সূরা আলে ইমরানঃ আয়াত-৭৩,৭৪) (আমালে কোরআনী)
একুশ নং আমল

জুমআর নামাজের পর নিচের আয়াত লিখে দোকানে বা

বাড়ীতে রাখলে রোজগার বাড়ে। আয়াত এই-

ولقد مكنكم فی الارض وجعلنا لكم فيها معايش٠ قليلا ما تشكرون٠

উচ্চারণ- ওয়া লাকাদ মাক্কান্নকুম ফিল আরদি ওয়া জাআ‘লনা লাকুম ফিহা মাআ‘ই, ক্বালিলাম মা তাশকুরুন।

(সূরা আরাফঃ আয়াত-১০) (আমালে কোরআনী)
বাইশ নং আমল

সূরা ইউসুফ লিখে পানিতে ধৌত করে পান করলে জীবিকা ও সম্মান বৃদ্ধি পায়। এই সূরা তাবিজরূপে শরীরে বাঁধলে স্ত্রীর ভালবাসা পাওয়া যায়। (আমালে কোরআনী) 
তেইশ নং আমল

সূরা যারিয়াহ অধিক পরিমানে তিলাওয়াত করলে রুজি বৃদ্ধি পায়। (আমালে কোরআনী) 
চব্বিশ নং আমল

চাঁদের প্রথম জুমআর দিন হতে আরম্ভ করে ৪০ জুমআ পর্যন্ত মাগরীবের নামাজের পর সূরা আলে ইমরানের ১৫৪ নং আয়াত ১১ বার করে তিলাওয়াত করলে রুজি-রোজগার বৃদ্ধি পায়। সেই সাথে সূরা আরাফের ১০ নং আয়াতটি কাগজে লিখে প্রতিদনি কুপের মধ্যে কিংবা নদীতে (যেখানে মাছ থাকবে হবে) নিক্ষেপ করবেন। এতে ইনশা আল্লাহ্ রুজি-রোজগার বৃদ্ধি পাবে। (আমালে কোরআনী)
পচিশ নং আমল

সূরা তওবার আয়াত নং ১১১ লিখে ব্যবসার মালের মধ্যে রাখলে মালের বেচা-কেনা বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যবসায় উন্নতি হয়ে থাকে। (আমালে কোরআনী)
ছাব্বিশ নং আমল

প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর বিশেষ করে ফরজ ও আছর নামাজের পর শুরুতে ও শেষে ৩ বার দুরূদ শরীফ পাঠ করবেন। তারপর ৪১ বার নিচের দোয়া কেবলমাত্র রিজিক বৃদ্ধি ও সওয়াবের উদ্দেশ্যে পাঠ করবেন। দোয়াটি হল-

يا غياث المستغيثين اغثنی ويا رزاق اُرْزُقْنِی رِزْقاً بغير حساب٠
(গনজিনায়ে আছরার)

সাতাইশ নং আমল

ফজর নামাজের সুন্নত ও ফরজের মধ্যর্তী সময়ের ভিতরে সূরা হুমাযাহ অর্থাৎ ওয়াইলুলল্লি কুল্লি হুমাযাহ ৪১ বার ৪০ দিন পর্যন্ত প্রতিদিন (কোনো দিন যাতে বাদ না পরে) পড়বেন। চিল্লা শেষ হওয়ার পর এই আমলকারীকে আল্লাহ তায়া’লার পক্ষ হতে ৪০টি রোপা দান করা হবে। (বায়াযে মুহাম্মদী আসলী)  (للٰهُ اعلم)
আটাইশ নং আমল

যে ব্যক্তি সূরা ওয়াকিয়া মাগরীব ও ঈশার নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে তিলাওয়াত করবে এবং মাগরীব হতে ঈশা পর্যন্ত কারো সাথে কথা না বলবে। তারপর নিচের দোয়া পড়বে আল্লাহ তা’য়ালা তাঁর রিজিকের দরজা খুঁলে দিবেন। দোয়াটি হলো-

اللٰهم يا مسبب الاسباب ويا مفتح الابواب يسر علينا الحساب٠ اللٰهم ان  كان رزقى فی السماء فانزله وان كان فی الارض فاخرجه وان كان بعيدا فقربه الی وان كان كريبا فيسره وان كان قليلا فكثره وان كان كثيرا فخلده وطيبه وان كان طيبا فبارك فیه٠ انك علی كل شئ قدير٠

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া মুসাব্বিল আছবার ওয়া ইয়া মুফাত্তিহাল আবওয়াব, ইয়াছছির আলাইনাল হিছাব, আল্লাহুম্মা ইন কানা রিজক্বি ফিস-সামায়ি ফাআনজিলাহু, ওয়া ইনকানা ফিল আরদি ফাআখরিজহু, ওয়া ত্বাইয়্যিবহু, ওয়া ইনকানা ত্বাইয়্যিবান ফাবারিক ফিহি ইন্নাকা আলা কুল্লি শাইয়্যিন ক্বাদির। (বায়াযে মুহাম্মাদী আসলী)

ঊনত্রিশ নং আমল 
জুমআর দিন আছরের নামাজের পর ৭০ বার আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে মনে এক অপূর্ব ভাবের সৃষ্টি হয়। এই অবস্থায় রোজগার বৃদ্ধি ও জীবিকা প্রাপ্তির জন্য প্রার্থনা করলে তা কবুল হয়। (আমালে কোরআনী)
ত্রিশ নং আমল

হযরত মাওলানা জনাব কামরুল হুদা খান ছিদ্দিকী ছাহেব তাঁর একটি বিখ্যাত উর্দু কিতাবে উল্লেখ করেন যে, যদি কেহ বৃহস্পতিবার দিন রোজা রাখেন এবং ইফতারের পূর্বে গোসল করেন এবং (সেলাই ছাড়া) এক পাটের লুঙ্গি পরিধান করেন। আতর, সুবাসিত তেল ইত্যাদি মেখে একাকী কোনো হুজরায় বসে এবং সেখানে আগর বাতি, চন্দনকাঠ ও লোবান জ্বালিয়ে ধুনি দেবেন এবং ২ রাকাত নামাজ পড়বেন এবং প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতেহার পর ১০ বার সূরা যিলযালাহ, ৪ বার সূরা কাফিরুন ও ১১ বার সূরা ইখলাছ পাঠ করেন। তারপর সালাম ফিরানোর পর নিচের দোয়া ১ হাজার ৪০ বার পাঠ করে শেখ শিহাবুদ্দিন কলন্দর (রঃ) এর রূহের উপর এর সওয়াব বখশীশ করেন এবং মনে মনে বাসনার বিষয় খেয়াল করেন তবে খোদার ইচ্ছায় তাঁর আশা পূর্ণ হবে। কোনো কঠিন বিষয় হলে এরূপ ৩ বার আমল করবেন। ইনশাহ আল্লাহ ফল পাইবেন। দোয়াটি হলো-

بسم اللٰهِ الرحمٰنِ الرحيم٠ يا بديع العجاﺌب با­ لخير سهل علينا بفضلك يا عظيم  يا عزيز٠

উচ্চারণ- বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম, ইয়া বাদিয়াল আজায়িবি বিলখাইরি ছাহহিল আ‘লাইনা বিফাদলিকা ইয়া আ‘জিম ইয়া আ‘জিজু।

(তৃতীয় অধ্যায় সমাপ্ত)

যোগাযোগ

০১৭১৬-৩৮৬৯৫৮

 

What do you think?

0 points
Upvote Downvote

Comments

Leave a Reply

Loading…

0

Comments

0 comments

তাজবীদ শিক্ষা (আল কাউলুছ ছাদিদ)

আমালিয়াত ১ম খন্ড, চতুর্থ অধ্যায় (১ম পর্ব)