তেলেসমাতে হায়ওয়ানাত (১ম পর্ব)

ইমাম কামাল উদ্দিন দামেরী (রহ) তার আরাবি কিতাব হাইয়াতুল হায়ওয়ান’ নামক গ্রন্থে প্রাণীদের উপকারীতা ও গুণাগুণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন। আমি কেবল প্রাণীদের তেলেসমাত সংক্রান্ত কতিপয় অবাক করা বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।

প্যাচা ও কাক

প্যাচা ও কাক এই দু’টি পরস্পর পরম শত্রু। প্যাচার আরেক নাম-কাকারি। বলা হয়ে থাকে প্যাচা কাককে দেখলেই মেরে ফেলে ও প্যাচা যে জায়গায় থাকে, সেখানে কাক যায় না। তন্ত্র গ্রন্থে প্যাচা ও কাকের মিশ্রিত তান্ত্রিক প্রয়োগও পাওয়া যায়। তার মধ্যে কিছু প্রয়োগ এখানে দেওয়া হচ্ছে

(১) প্যাঁচার বিষ্টা ও কাকের বিষ্টা একত্রে মিশিয়ে গোলাপ জল তাতে মিশিয়ে চন্দনের মতো প্রলেপ তৈরি করে নিবে। তারপর তার তিলক কপালে লাগিয়ে যে স্ত্রীলোকের সামনে গিয়ে দাঁড়াবে, সে দেখলেই বশীভূত হবে।

(২) প্যাচার পাখা ও কাকের পাখা নিয়ে চন্দন কাঠের আগুনে পুড়িয়ে ভষ্ম তৈরি করে নিতে হবে। এই ভষ্ম যার মাথায় ছিটিয়ে দেবে সে সম্মোহিত হয়ে বশীভূত হবে।

(৩) প্যাচার ঠোঁট ও কাকের ঠোঁট এই দু’টিকে বাবলা কাঠের আগুনে পুড়িয়ে ভষ্ম করতে হবে। এই ভষ্মকে যে স্ত্রীলোকের ওপর ছড়িয়ে দেবে সে পাগল হয়ে উঠবে।

(৪) প্যাচার বাঁ দিকের ঠ্যাং ও কাকের ডান দিকের ঠ্যাং নিয়ে দু’টিকে লাল কাপড়ে একসঙ্গে জড়িয়ে তার ওপর কালো সুতা বেঁধে দেবে। পরে সেই পুঁটলি শক্রর ঘরে ফেলে দিলে শক্রর উচ্চাটন হয়।

(৫) প্যাচার পাঁজরার হাড় ও কাকের পাঁজরের হাড় এক সঙ্গে লাল কাপড়ে জড়িয়ে কালো সুতার দ্বারা ভালভাবে জড়িয়ে নিতে হবে। তাপর সেটি কোনো প্রকারে ঘুমোবার সময় শক্রর বালিশের নিচে রেখে দিলে শত্রু পরাস্ত হয়ে মাথা নত করবে।

(৬) প্যাচার জীভ ও কাকের জীভ একত্রে মিলিয়ে চন্দন কাঠের আগুনে পুড়িয়ে ভষ্ম করে নেবে। এই ভষ্ম যে দু’জনের মধ্যে পরস্পর বিদ্বেষণ করাতে হবে তাদের দেহে ছড়িয়ে দিলে বিদ্বেষণ হবে।

(৭) প্যাচার বুকের পালক ও কাকের বুকের পালক দু’টিকে এক সঙ্গে মিশিয়ে তাবিজ ভরে নেবে। পরে এই তাবিজটি নিজের বাহুতে ধারণ করে যেখানে যাবে সেখানেই প্রচুর সম্মান পাবে।

(৮) প্যাঁচার পালক নিয়ে বালিশের নিচে রেখে দিলে শিশুদের ভয় পাওয়া স্বপ্ন শিশুরা দেখবে না এবং ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে চমকে ওঠা বন্ধ হবে।

(৯) প্যাঁচার ঠোঁট তামার তাবিজে ভরে সেই তাবিজ শিশুর গলায় পরিয়ে দিলে সেই শিশুর ওপর কোনো তুক-তাকের প্রভাব পড়ে না।

(১০) যদি প্যাচার নখ তাবিজে ভরে শিশুর গলায় পরিয়ে দেয়া যায় তাহলে ডাইন, ভূত, প্রেত, মশাল প্রভৃতির ভয় থাকে না।

(১১) যদি প্যাঁচার শিরদাঁড়ার হাড় নিয়ে তাবিজে ভরে সেই তাবিজ শিশুর গলায় পরিয়ে দেয়া যায় তাহলে শিশুর দাঁত কড়মড় করা, জ্বর উঠা এবং অন্যান্য প্রকার রোগও দূর হয়।

(১২) প্যাঁচার ঘাড়ের হাড় ও কাকের ঘাড়ের হাড় এই দু’টি দ্রব্য তাবিজে ভরে তা সর্বদা নিজের পকেট রাখলে পকেট কখনো খালি থাকে না।

(১৩) প্যাচার ডিম ও কাকের ডিম একত্রে ছাগলের দুধের সঙ্গে মিশিয়ে ঘাঢ় প্রলেপ তৈরি করবে। সেই প্রলেপ দ্বারা নিজের কপালে তিলক ধারণ করে সাক্ষাৎকার করতে গেলে সাফল্য লাভ হয়। পরীক্ষাতে সাফল্য লাভ হয়।

(১৪) প্যাঁচার মাথার পাখা ও কাকের মাথায় পাখা একত্রে পুড়িয়ে ছাই করে সেই ভষ্ম দ্বারা নিজের কপালে তিলক ধারণ করে মোকদ্দমায় গেলে বিজয় লাভ হয়।

(১৫) প্যাঁচার লেজের পালক ও কাকের লেজের পালক একসঙ্গে আমকাঠের আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে কপালে তিলক ধারন করে গেলে চাকুরি পাওয়া যায়।

(১৬) প্যাঁচার চোখ ও কাকের বিষ্টা দু’টিকে গঙ্গাজলে পেষন করে প্রলেপ তৈরি করবে। সেই প্রলেপকে ২১ দিন পর্যন্ত নিজের কপালে তিলকের মতো ধারণ করে থাকলে চাকুরির স্থলে মালিকের কৃপা লাভ করা যায়।

(১৭) প্যাঁচার পাজ্ঞা ও কাকের পাজ্ঞা দু’টি একত্র করে তাবিজের মধ্যে বন্ধ করে দিন। তারপর ঐ তাবিজকে লাল সুতায় জড়িয়ে নিজের বাহুতে ধারণ করলে চাকুরিতে পদোন্নতি হয়।

(১৮) প্যাঁচার মুন্ডুর হাড় ও কাকের মুন্ডুর হাড় একসঙ্গে নিয়ে জ্বলন্ত চিতার আগুনে জ্বালিয়ে ছাই করে নেবে। এই ছাইকে নিজের কপালে তিলকরূপে ধারণ করলে নির্বাচনে জয় লাভ হয়।

(১৯) কাকের পাখা ও প্যাঁচার পাখাকে একসঙ্গে লাল কাপড়ে জড়িয়ে নিজের বাহুতে বেঁধে জুয়া খেললে জুয়াতে জয় লাভ হয়।

(২০) একটি প্যাঁচা জবাই করে মাটিতে রাখলে দেখবে সেটির একটি চোখ বন্ধ এবং অপরটি খোলা। তখন বন্ধ চক্ষুটি নিয়ে ছোট একটি শিশি বা কৌঠার মধ্যে ভরে উম্মাদ রোগীর অনামিকা আঙ্গুলের সাথে বেঁধে রাখলে অত্যাধিক ঘুম হবে এবং তা রোগীর জন্য বিশেষ ফলপ্রদ।

(২১) প্যাঁচার জিহবা এবং কলিজা একত্র করে তার সাথে নিজের মনির লালা মিশ্রিত করে প্রিয় ব্যক্তিকে খাওয়ালে অগাধ ভালবাসা সৃষ্টি হবে।

(২২) প্যাঁচার শুকনো মল পানে রেখে যাকে খাইয়ে দেয়া যাবে সে চিরকালের জন্য আপনার বশীভূত হবে।

(২৩) প্যাঁচার পিঠের চুল তুলে শত্রুর ঘরে ফেলতে পারলে বিজয় প্রাপ্ত হবেই।

(২৪) রবিবার দিন প্যাঁচার কিছু পালক আগুনে পুড়িয়ে ভষ্ম তৈরি করতে হবে। এবার সেই ভষ্মের সঙ্গে কুমকুম ও কস্তরী মিশিয়ে গুটিকা তৈরি করবে। সেই গুটিকা দ্বারা চোখে কাজল দিয়ে অদৃশ্যকরণ হয়। এই ক্রিয়া সাবধানে করতে হয়। গুরুর আদেশ ছাড়া এই কার্য্য করা উচিৎ নয়।

প্রথম পর্ব সমাপ্ত

দ্বিতীয় পর্ব পড়তে চাইলে

What do you think?

0 points
Upvote Downvote

Comments

Leave a Reply

Loading…

0

Comments

0 comments

বিজয় ও বশিকরণের জন্য খাস আমল

তেলেসমাতে হায়ওয়ানাত (২য় পর্ব)