আমালিয়াত ১ম খন্ড, দ্বিতীয় অধ্যায়

লেখক: হযরত মাওলানা ক্বারী মো: নজরুল ইসলাম সাহেব, ভাদেশ্বরী। (এমএম, এমএ)

আমালিয়াত (১ম খন্ড)

বিশেষ দ্রষ্টব্য: সময়ের স্বল্পতাহেতু সকল আয়াত বা বাক্যের হরকত দেয়া সম্ভব হয়নি।

ইনশাহ আল্লাহ ধীরে ধীরে প্রতিটি আয়াত বা বাক্যের হরকত সংযোজন করা হবে তথা যের, যবর, পেশ সংযোজন করা হবে। তাই আপডেট পেতে সাথে থাকুন।

দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু

প্রদত্ত আমলসমূহ কবুল হওয়ার জন্য কতিপয় শর্ত মেনে চলা অত্যন্ত প্রয়োজন-

১. শরীয়তের পূর্ণ অনুস্বরণ, হালাল খাদ্য গ্রহণ, সদা সত্য কথা বলা। 

২. অতি দ্রুত আমলের ফল পেতে চাইলে: ১ নং শর্ত, কামিল/আমিল উস্তাদের অনুমতি, আমলের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস, রোজা রাখা, নির্জনতা অবলম্বন করা, সর্বদা অযুর সাথে থাকা, তরকে হায়ওয়ানাত (জালালী ও জামালী), অসৎ সঙ্গ পরিত্যাগ, অহেতুক কথা বলা বর্জন, যে আমল শুরু করবেন তা গোপন রাখা ও ফল দেখতে না পেলে দৈর্য্য না হারানো এবং ১ চিল্লায় ফল না পেলে ৩ চিল্লা করবেন এতে অবশ্যই ফল পাবেন।

হাজত পূরণের জন্য আমলসমূহ 

১. মকছুদ হাসিলের জন্য খাজা খিযির (আঃ) এর নামাজ

ইমাম শাফেয়ী (র) তাঁর নিজ হস্তে লিখিত “বিয়ায” নামক কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই হাজতের নামাজ আদায় করলে ১ হাজার মকছুদ পূর্ণ হয়ে থাকে। হাকিম আবুল কাসেম বর্ণনা করেছেন যে, এই আমল খাজা খিযির (আঃ) কোনো এক আবেদ ব্যক্তিকে শিক্ষা দিয়েছিলেন। আমি এই নামাজের নিয়ম জানার জন্য ঐ আবেদের নিকট লোক পাঠালাম এবং তিনি আমাকে উক্ত নামাজের নিয়ম শিক্ষা দেন। আমি এই নামাজ যথা নিয়মে আদায় করে আল্লাহপাকের দরবারে ইলম ও হিকমতের জন্য দোয়া করি। এই নামাজের ওছিলায় আল্লাহ তা’য়ালা আমাকে ইলম ও হিকমত দান করেন। এমনকি এই নামাজ আদায়ের ফলে আমার ১ হাজার মকছুদ পুরা হয়েছে।

নামাজের নিয়ম

২ রাকাত নফল নামাজ এভাবে পড়বেন যে, প্রথম রাকাতে সূরা ফাতেহার পর ১০ বার সূরা কাফিরুন, দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফাতেহার পর ১১ বার সূরা ইখলাছ পড়বেন এবং নামাজ শেষ করে সালাম ফিরানোর পর একটি সিজদা করবেন। সিজদার মধ্যে দুরূদ শরীফ ১০ বার

سبحان اللٰه و الحمد للٰه ولا اله الا اللٰه واللٰه اكبر ولا حول ولا قوة الا بالله العلي العظيم٠

 উচ্চারণ: সোবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়ালহু আকবার, ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহিল আ‘লীয়িল আ‘জিম। ১০ বার এবং

ربنا اٰتنا في الدنيا حسنة وفي الاخرة حسنة وقنا عذاب النار٠

 উচ্চারণ: রাব্বানা আতিনা ফিদ্ দুনয়া হাছানাতাও ওয়াফিল আখিরাতি হাছানাতাও ওয়াক্বিনা আ‘জাবান নার। ১০ বার পড়বেন। এবং সিজদারত অবস্থায় আপনার মকছুদের কথা কায়মনে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা জানাবেন। (আমালে কোরআনী)

২. সূরা ইয়াসিনসূরা মূলক তিলাওয়াতের মাধ্যমে মকছুদ হাসিল

সূরা ইয়াসিনে মোট চারবার الرحمٰن ও তিনবার اللٰه শব্দ উল্লেখিত হয়েছে। অনুরূপ মূলক সূরায়ও মোট চারবার الرحمٰن ও তিনবার اللٰه শব্দ আছে। হাজত পূরণের নিয়ত করে সূরা ইয়াছিন এভাবে তিলাওয়াত করবেন যে, الرحمٰن শব্দ উচ্চারণ করার সময় ডান হাতের কনিষ্ট অঙ্গুলি বন্ধ করবেন এবং اللٰه শব্দ উচ্চারণের সময় বাম হাতের কনিষ্ট অঙ্গুলি বন্ধ করবেন। এভাবে সমস্ত ইয়াসিন সূরা তিলাওয়াত করা শেষ করলে ডান হাতের চারটি আঙ্গুল ও বাম হাতের তিনটি আঙ্গুল বন্ধ হবে। তারপর মূলক সূরা এভাবে তিলাওয়াত করবেন যে, যখন الرحمٰن শব্দ উচ্চারণ করবেন তখন ডান হাতের কনিষ্ট অঙ্গুলি খুলবেন এবং اللٰه শব্দ উচ্চারণের সময় বাম হাতের কনিষ্ট অঙ্গলি খুলবেন। এভাবে সমস্ত বন্ধ আঙ্গুল খুলে যাবার পর সম্পূর্ণ সূরা তিলাওয়াত করা শেষ করবেন। এবং আল্লাহর কাছে আপনার মকছুদের জন্য প্রার্থনা করলে দোয়া কবুল হয়। (আমালে কোরআনী)

৩. ইয়া লাতিফু ইসিম মোবারকের মাধ্যমে মকছুদ হাসিল

আল্লাহপাকের রয়েছে ৯৯টি গুণবাচক নাম । তন্মধ্যে ৪৫টি ইসিম আছে যাদেরকে বলা হয় “আছমায়ে রহমত”। এগুলোকে আছমায়ে জামালীও বলা হয়। এই আছমায়ে রহমত এর মধ্যে ৭টি নাম উচ্চ মর্যাদা ও রিজিক বৃদ্ধির জন্য প্রসিদ্ধ। যার মধ্যে يا لطيف ইসিমটি মনের জায়েজ মকছুদ পূরণের জন্য অতিব গুরুত্বপূর্ণ। লাতিফ শব্দে-

ل ط  ى  ف এই যে ৪টি হরফ আছে, তাদেরকে আবজাদে ক্বামারী দ্বারা হিসেব করলে এদের সংখ্যা হয় ১২৯। যদি কোনো ব্যক্তি জায়েজ উদ্দেশ্য হাসিলের ইরাদা করে يا لطيف ইসিমটি ১২৯*১২৯=১৬৬৪১ বার একই বৈঠকে কম-বেশি না করে পড়ে শেষ করেন তাহলে আল্লাহ তাঁর মনোবাঞ্চনা পুর্ণ করেন। এই ইসিমটির খতম পড়ার নিয়ম হলো প্রতি ১২৯ বার পাঠ করে ৩ বার নিচের আয়াতটি তিলাওয়াত করবেন।

لاتدركه الابصار وهو يدرك الابصار وهو اللطيف الخبير٠

(সূরা আনআমঃ আয়াত-১০৩)

এভাবে ১২৯ তাছবীহ পড়বেন। তাহলে ১৬৬৪১ বার হবে। খতম শুরু করার আগে ও পরে ৩ বার করে দুরূদ শরীফ পড়বেন।

ইমাম দামিরী (রঃ) বলেন, আমার শায়েখ (রঃ) আমাকে বলেছেন যে, প্রয়োজন পূরণ, খয়ের-বরকতের উদ্দেশ্যে, চিন্তা-ভাবনা দূর করার উদ্দেশ্যে এই আমল অতিব ফলপ্রসূ।

কোনো কোনো কিতাবে উল্লেখ আছে যে, প্রতিদিন ১৯০০ বার করে ১৯ দিন নির্দিষ্ট সময়ে পড়তে হবে। পড়ার আগে ও পরে দুরূদে ইব্রাহিম ৩ বার পাঠ করতে হবে। তাহলে উক্ত আয়াতের জাকাত আদায় হয়ে যাবে। যাকাত আদায়ের পর সামান্য শিরনী বিতরণ করবেন। (মশহুর)

 ৪. বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য আমল

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে রেওয়ায়েত যে, কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার রোজা রাখবেন এবং জুম্মার দিন গোসল করে মসজিদে যাবেন এবং যাবার সময় পথে সাধ্যমত কিছু সদকা করবেন। তারপর নামাজ শেষ করে নিচের দোয়া পড়বেন। দোয়াটি হলোঃ

اللٰهم انی اسئلك باسمك الرحمٰن الرحيم اللٰه لااله الاهوالحى  القيوم لاتئخذه سنة ولانوم له  ما فی السموات ومافی الارض من ذالذی يشفع عنده الا باذنه يعلم ما بين ايديهم وما خلفهم الذي عنت له الوجوه وخشعت له الاصوات ووجلت القلوب من خشيته اسئلك ان نصلى على سيدنا محمد وعلٰى اٰله واصحابه وان تقضى حاجتى٠ 

 উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আছআলুকা বি-ইসমিকার রাহমানুর রাহিম। আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহু আল হাইয়ুল ক্বাইয়ুমু লা তা‘খুজুহু ছিনাতুও ওয়ালা নাওম। লাহু মাফিছ ছামাওয়াতি ওয়ামাফিল আরদ্ব, মানজাল লাজি ইশফায়ু ই‘নদাহু ইল্লা বি-ইজনিহ। ইয়ায়‘লামুমা বাইনা আইদিহিম ওয়ালা খালফাহুম, আল্লাজি আ‘নাতা লাহুল ওজুহু ওয়া খাশায়াত লাহু আসওয়াতি ওয়া ওজিলাতিল কুলুবু মিন খাশয়াতিহি আছআলুকা আন নুসাল্লি ওয়া তুছাল্লিমা আ‘লা ছায়্যিদিনা মুহাম্মদিও ওয়া আ‘লা আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়া আন তাক্বদী হাজাতি।

এখানে ‘হাজাতি’ এর স্থলে নিজের হাজতের কথা বলবেন। তাহলে অচিরেই আপনার উদ্দেশ্য সফল হবে।

এই আমল সম্পর্কে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) বলেন- এই দোয়া জাহিল ও জালিম লোকদের শিখাবেন না। তাহলে একজন আরেকজনের উপর বদদোয়া করতে পারে আর এটা কবুল হয়ে যাবে। ফলে তারা  উভয়ই ধ্বংশ হয়ে যাবে। (মুজর্রবাতে দেরভি)

 ৫. যে কোনো উদ্দেশ্য হাসিলের আমল

হযরত মাওলানা জনাব কামরুল হুদা খান ছিদ্দিকী ছাহেব তাঁর একটি বিখ্যাত কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে, হযরত আব্দুল কাদীর জিলানী (র) বলেছেন- যে ব্যক্তি ঈশার নামাজের পর একাধারে ১০ বার করে ১০ দিন নিচের দোয়াটি পড়িবে, আল্লাহ তা’য়ালার হুকুমে নিশ্চয়ই তাঁর জায়েদ উদ্দেশ্য হাসিল হবে।

بسم الله الرحمن الرحيم٠  سبحان الله القادر القاهر القوى  الكافي يا حي يا قيوم لا حولا ولا قوﺓ الا بالله العلي العظيم٠

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম, সোবহানাল্লাহুল ক্বা-দিরি আল ক্বা-হিরুল ক্বাওয়ীয়ুল কাফি ইয়া হাইয়ু, ইয়া ক্বাইয়ুম। লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়িল আজিম। 

৬. জায়েদ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য পরীক্ষিত আমল 

যে কোনো প্রকার জায়েদ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য নিচের দোয়াটি অতি ফলপ্রদ। আমলটি ১২ দিনের এবং আরবি মাসের শুরুর দিকে করবেন।

আমলের নিয়ম হলো গোসল করে পাক-পবিত্র বিছানায় বসে প্রতিদিন একই সময়ে ১২০০ বার নিচের দোয়াটি পাঠ করবেন। এভাবে ১২ দিন আমল করবেন। আমল করার আগে ও পরে ৩ বার করে দুরূদ শরীফ পড়বেন। আর আতর, গোলাপজল, আগরবাতি ব্যবহার কববেন এবং লোবান জ্বালিয়ে ধুনী দিবেন। দোয়াটি হলো-

يا بديع العجاﺌب بالخير يا بديع٠

৭. কঠিন সমস্যা সমাধানের আমল

যখন কোন সমস্যার সম্মুখীন হবেন তখন গোসল করে পবিত্র কাপড় পরিধান করবেন এবং গায়ে সুগন্ধি লাগাবেন। অতঃপর জায়নামাজে বসে আয়াতুল কুরসী ৩ বার, আমানার রাসূলূ বিমা হতে সম্পূর্ণ আয়াত ৩ বার, সূরা কাফিরুন, সূরা ইখলাছ, সূরা ফালাক, সূরা নাস ৩ বার করে পাঠ করে স্বীয় শরীরে ফুঁক দিবেন। তারপর সূরা ফাতেহা নিম্নোক্ত নিয়মে ৭ দিন তিলাওয়াত করবেন। রবিবারে পড়বেন ৫৮ বার-

بسم الله الرحمن الرحيمِ الحمد لله رب العالمين٠ 

 “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমিল হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন।”

সোমবারে পড়বেন -৬১৮ বার

“আর রাহমানির রাহিম।” 

মঙ্গলবার পড়বেন -২৪২ বার

“মালিকি ইয়াওমিদ্দিন।”

বুধবার পড়বেন -২৩৬ বার

“ইয়য়াকানায় বুদু ওয়া ইয়া ইয়য়াকানাছ তায়িন।” বৃহস্পতিবার পড়বেন -৩৬০ বার

“ইহদিনাস সিরাতাল মুসতাকিম।

শুক্রবার পড়বেন -১৩০৪ বার

“গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ দোয়াল্লিন, আমীন।” উক্ত আমলে ৭দিনের মধ্যেই মনের বাসনা পূর্ণ হবে।

রাসূলুলল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন- যে ব্যক্তি নিদ্রায় যাওয়ার আগে আয়াতুল কুরসী, সূরা ইখলাছ, সূরা ফালাক, ও সূরা নাস পাঠ করে, আল্লাহ পাক তাঁর হিফাজতের জন্য ২ জন ফেরেস্তা নিযুক্ত করেন। ঐ রাতে যদি এই ব্যক্তি মারা যায় তাহলে আল্লাহ তা’য়ালা ঐ ব্যক্তির সকল পাপ ক্ষমা করে দেন। 

৮. আশা-আকাংখা পূরণ হওয়ার আমল

হযরত মাওলানা জনাব কামরুল হুদা খান ছিদ্দিকী ছাহেব তাঁর একটি বিখ্যাত কিতাবে অতিব গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন যে, নিজের মকছুদ পূরণের জন্য পাক-পবিত্র হয়ে নির্জন হুজরায় বসে একাগ্রচিত্তে قادير يا ইসিমটি প্রথম দিন ১ হাজার বার, দ্বিতীয় দিন ২ হাজার বার, তৃতীয় দিন ৩ হাজার বার, এভাবে প্রতিদিন ১ হাজার করে বর্দ্ধিত করে ১২ দিন পর্যন্ত আমল করবেন। আমল শুরু করার আগে ও পরে বিসমিল্লাহসহ ১১ বার করে দুরূদ শরীফ পাঠ করবেন আমল শেষে ২ রাকাত নফল নামাজ পড়ে নবী করীম (সাঃ) এর নামে দোয়া বখশীশ করবেন। এছাড়া আমলের সময় আতর, গোলাপজল, কস্তরী ইত্যাদি ব্যবহার করবেন। ইনশাহ আল্লাহ উদ্দেশ্য হাসিল হবে। প্রথম ১২ দিনে আমলের কোন ফল না পেলে মাঝখানে ২ দিন বিরতি দিয়ে পুনরায় ১২ দিন আমল করবেন। এই চিল্লায় অবশ্যই ফল পাইবেন। আমলটি পরীক্ষিত। (নাফিউল খালায়েক)

 ৯. খতমে খাজেগান পড়ার মাধ্যমে উদ্দেশ্য হাসিল

হজরত খাজা বাহা উদ্দিন নকশবন্দী, হজরত খাজা বয়োজিদ বোস্তামী, হজরত খাজা আবুল হাছান খারকানী, হজরত খাজা আব্দুল খালেক এজদাওয়ানী, খাজা আহমদ ওয়াছওয়াতী, হজরত খাজা আবুল মনসুর, হজরত খাজা হামদানী, হজরত খাজা বাবাছমিনাছী, হজরত খাজা মোহাম্মদ নকশবন্দী, হজরত খাজা আব্দুল্লাহ আহরাফী, (আল্লাহ তাঁদের উচ্চ মর্যাদা দান করুন) এ সকল ওলী- আল্লাহগণ সুদৃঢ় অভিমত ব্যক্ত করে বলেছেন, যে ব্যক্তি নিচের নিয়মে ৩ দিন পর্যন্ত খতমে খাজেগান পড়বে, আল্লাহ তা’য়ালা তাঁর ১ হাজার ১টি আশা পূর্ণ করবেন।

হযরত মাওলানা জনাব কামরুল হুদা খান ছিদ্দিকী ছাহেব তাঁর একটি বিখ্যাত উর্দু কিতাবে খতমে খাজেগানের কথা অতিব গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেছেন। এই খতম যে কোনো সময়ই পড়া যায়। তবে সোমবার বা বৃহস্পতিবার অথবা শুক্রবার আরম্ভ করাই উত্তম। আশা পূরণের জন্য এই খতম অত্যন্ত কার্যকরী। ইহা বহুবার পরীক্ষা করা হয়েছে। 

খতম পড়ার নিয়ম

কয়েকজন পরহেযগার-মুত্তাকী লোক পাক-পবিত্রতার সাথে বসে নিচের নিয়মে খতমে খাজেগান পড়বেন-

সূরা ফাতেহা ৭ বার, ১০০ বার দুরূদ শরীফ। তারপর ৭৯ বার সূরা আলাম নাশরাহলাকা, ১০০০ বার সূরা ইখলাছ, ১০০ বার দুরূদ শরীফ। তারপর ১০০ বার পড়বেন-

اللهم يا قاضی الحاجات٠

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া ক্বাদিয়াল হাজাত,

অর্থ- হে আল্লাহ্! হাজতমসূহ পূর্ণকারী।

১০০ বার পড়বেন-

اللهم يا  كافی المهمات٠

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া কাফিয়াল মুহিম্মত,

অর্থ- হে আল্লাহ্! হে গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলী সস্পাদনকারী! ১০০ বার পড়বেন-

اللهم يا دافع البليات٠

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া দাফি‘য়াল বালিইয়াত,

অর্থ- হে আল্লাহ্! হে বিপদসমূহ প্রতিরোধকারী!

১০০ বার পড়বেন-

اللهم يا مجيب ادعوات٠

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া মুজিবাদ্ দায়ওয়াত,

অর্থ- হে আল্লাহ! হে প্রার্থনাসমূহ কবুলকারী!

১০০ বার পড়বেন-

اللهم يا رافع ادرجات٠

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া রা-ফিয়া’দ্ দারাজাত,

অর্থ- হে আল্লাহ! হে মর্যাদাসমূহ উন্নয়নকারী!

১০০ বা পড়বেন-

اللهم يا مسبب الاسباب٠

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া মুছাব্বিবাল আছবাব,

অর্থ- হে আল্লাহ! হে সকল উপকরণের ব্যবস্থাপক!

১০০ বার পড়বেন-

اللهم يا مفتح الابواب٠

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া মুফাত্তিহাল আবওয়াব,

অর্থ- হে আল্লাহ! হে দরজাসমূহ (রহমতের) উম্মুক্তকারী!

১০০ বার পড়বেন-

اللهم يا حلال المشكلات٠

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া হাল্লালাল মুশকিলাত,

অর্থ- হে আল্লাহ! হে বিপদসমূহ থেকে মুক্তিদানকারী!

১০০ বার পড়বে-

اللهم يا  ناصر الطيبات٠

উচ্চারণ- আল্লাহম্মা ইয়া না-সিরাত্ ত্বাইয়্যিবাত,

অর্থ- হে আল্লাহ! হে উত্তম কার্যাবলির সাহায্যকারী!

১০০ বার পড়বেন-

اللهم يا ولى الحسنات٠

উচ্চারণ- আল্লাহম্মা ইয়া ওয়ালিয়্যাল হাছানাত,

অর্থ- হে আল্লাহ! হে কল্যানসমূহের অধিকারী!

১০০ বার পড়বেন-

اللهم يا  شافى المرضٰی٠

উচ্চারণ- আল্লাহম্মা ইয়া শাফিয়াল মারদ্বা,

অর্থ- হে আল্লাহ! হে রোগীদের আরোগ্যদানকারী!

১০০ বার পড়বেন-

اللهم يا  منجی الهلكٰی٠  

উচ্চারণ- আল্লাহম্মা ইয়া মুনজিয়াল হালকা,

অর্থ- হে আল্লাহ! হে ধবংশ প্রাপ্তদের উদ্ধারকারী!

১০০ বা পড়বেন-

اللهم يا  منقذ الغرقٰی٠

উচ্চারণ- আল্লাহম্মা ইয়া মুনক্বিজাল গারক্বা,

অর্থ- হে আল্লাহ! হে ডুবন্তদের উদ্ধারকারী!

১০০ বার পড়বেন-

اللهم يا  شاهد كل نجوٰی٠

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া সাহিদা কুল্লি নাজওয়া,

অর্থ- হে আল্লাহ! হে সকল গোপন বিষয়ের দ্রষ্টা!

১০০ বার পড়বেন-

اللهم يا  منتهیٰ كل شكوٰی

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া মুনতাহা কুল্লি শাকওয়া,

অর্থ- হে আল্লাহ! হে সকল অভিযোগের প্রান্তসীমা!

১০০ বা পড়বেন-

اللهم يا  غياث المستغين٠

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া গিয়াছাল মুসতাগীসীন,

অর্থ- হে আল্লাহ! হে আর্তনাদকারীদের আর্তনাদ শ্রবণকারী!

১০০ বার পড়বেন-

اللهم يا  ذاالجلال والاكرام٠

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া যালজালালি ওয়াল ইকরাম,

অর্থ- হে আল্লাহ! হে মহত্ব ও দয়ার অধিপতি!

১০০ বার পড়বেন-

اللهم يا حى يا قيوم٠

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া হাইয়্যু ইয়া ক্বাইয়্যুম,

অর্থ- হে আল্লাহ! হে চিরঞ্জিব, হে সবকিছুর ধারক!

১০০ বা পড়বেন-

اللهم يا سلام٠

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া সালামু,

অর্থ- হে আল্লাহ! হে শান্তিদাতা!

১০০ বার পড়বেন-

اللهم يا  ارحم الرحمين٠

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া আরহামার রা-হীমীন,

অর্থ- হে আল্লাহ! হে দয়ালুদের বড় দয়ালু।

অত:পর নিচের দোয়াটি ১০০ বার পড়বেন-

فسهل  يا الهى كل صعب بحرمة سيد الابرار سهل بفضلك   يا عزيز٠

উচ্চারণ- ফাছাহ্হিল ইয়া ইলাহি কুল্লা স্বায়’বিন বিহুরমাতি সাইয়্যিদুল আবরার, ছাহ্হিল বিফাদলিক ইয়া আজীজ।

অর্থ- হে আল্লাহ! নেক্ কারগণের ছরদার হযরত মুহাম্মদ (সা) এর ইজ্জতে আমার প্রত্যেক কঠিন কাজ সহজ করে দাও! হে ক্ষমাশীল! তোমার দয়া দ্বারা সহজ করে দাও!

অত:পর নিজের হাজতের জন্য দোয়া করলে ইনশাহ আল্লাহ দোয়া কবুল হবে।

একটি বিস্ময়কর ঘটনা

হযরত সাবেত বেনানী (রঃ) বলেন, ২ রাকাত নামাজ পড়ার জন্য আমি একটা বাগানে গেলাম এবং নামাজের পূর্বে সূরা মুমিনের প্রথম ৩ আয়াত তিওলায়াত করলাম। হঠাৎ দেখি এক ব্যক্তি আমার পেছনে সাদা একটা খচ্ছরে সওয়ার হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর দেহে ছিল ইয়ামেনী পোশাক।

লোকটি আমাকে বললেন, যখন তুমি-

غافر الذنبِ

(গাফিরিজ্জাম্ভি) পড়ো, তখন তার সাথে এই দোয়াও পাঠ করো

يا غافرَ الذنبِ اغفرلى٠

উচ্চারণ- ইয়া গাফিরাজ্জাম্ভি, ইগ্ফিরলী।

অর্থ- হে পাপ ক্ষমাকারী! আমাকে ক্ষমা করুন। যখন

 وَ قابلِ التوبِ

(ওয়া ক্বাবিলিত্তাওবি) পড়ো, তখন এর সাথে এই দোয়া পাঠ করো-

يا قابلَ التوبِ اقبل توبتى٠

উচ্চারণ- ইয়া ক্বাবিলাত্তাওবি, ইক্ববাল তাওবাতি।

অর্থ-হে তওবা কবুলকারী! আমার তওবা কবুল করুন। যখন

شديدُ العقابِ

উচ্চারণ- শাহীদুল ইক্বাব

পড়ো, তখন এর সাথে এই দোয়া পাঠ করো-

يا شديدَ العقابِ لا تعاقبنی٠

 উচ্চারণ- ইয়া শাদীদাল ইক্বাবি, লা তু’য়াক্বিব্নী।

অর্থ- হে কঠোর শাস্তিদাতা! আমাকে শাস্তি দিবেন না। এবং যখন-

ذو الطول

উচ্চারণ- জিত্তাওলী, পড়ো, তখন এর সাথে এই দোয়া পাঠ করো-

يا ذَا الطولِ طل على بخير٠ 

উচ্চারণ- ইয়া জাত্তাওলী, ত্বীল আ’লাইয়্যা বিখাইর, অর্থ- হে অনুগ্রকারী! আমার প্রতি অনুগ্রহ করুন।

সাবেত বেনানী আরো বলেন, এ উপদেশ শোনার পর আমি যখন ঐ লোকের দিকে তাকালাম, তখন তাঁকে আর দেখতে পেলাম না। আমি তাঁর খুঁজে বাগানে দরজায় এসে লোকজনকে জিজ্ঞেস করলাম, কোনো ইয়ামনী পোশাক পরিহিত ব্যক্তি এ পথে গিয়েছে কিনা? সবাই বলল, আমরা এমন কোনো লোক দেখিনি।

(তাফসীরে মারেফুল কোরআন)

তাই খতমে খাজেগান পড়ার শেষের দিকে এই গুরুত্বপূর্ণ ৪টি দোয়া পড়লে আরো অনেক ফায়েদা হাসিল হবে।

১০০ বার পড়বেন-

يا غافرَ الذنبِ اغفرلى٠

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া গাফিরায্ জাম্বি, ইগফিরলী,

অর্থঃ হে আল্লাহ! হে পাপ ক্ষমাকারী! আমাকে ক্ষমা করুণ।

১০০ বার পড়বেন-

يا قابلَ التوبِ اقبل توبتى٠

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া ক্বাবিলাত্তাওবি, ইক্ববাল তাওবাতি,

অর্থ- হে তওবা কবুলকারী! আমার তওবা কবুল করুন।

১০০ বার পড়বেন-

يا شديدَ العقابِ لا تعاقبنی٠

উচ্চারণ- ইয়া শাদীদাল ইক্বাবি, লা তু’য়াক্বিব্নী,

অর্থ- হে কঠোর শাস্তিদাতা! আমাকে শাস্তি দিবেন না।

১০০ বার পড়বেন-

اللهمَ يا ذَا الطولِ طل على بخير٠ 

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া জাত্তাওলী, ত্বীল আলাইয়্যা বিখাইরী,

অর্থ- হে অনুগ্রহকারী! আমার প্রতি অনুগ্রহ করুন।

১০. হাজত পূরণের নামাজ

কঠিন হাজত পূরণের জন্য ৪ রাকাত নামাজ পড়বেন। প্রথম রাকাতে সূরা ফাতেহার পর ১০০ বার পড়বেন-

لا اله الا انت سبحانك انی كنت من الظالمين٠ فاستجبنا له ونجينهُ من الغمِ وكذالك ننجی المؤمنينَ٠

উচ্চারণ- লা ইলাহা ইল্লা আনতা সোবহানাকা ইন্নি কুন্তু মিনাজ্ জোয়ালিমীন। ফাছ্তা যাব্না লাহু ওয়া নাঝ্ঝাইনাহু মিনাল গাম্মী ওয়া কাজালিকা নুন্ঝিল মো‘মিনীন।

(সূরা আম্বিয়াঃ আয়াত-৮৭,৮৮)

দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফাতেহার পর ১০০ বার পড়বেন-

رب انی مسنی الضر وانت ارحم الراحمين٠

উচ্চারণ- রাব্বি আন্নী মাছ্ছানিয়াদ্ দ্বুর্রু ওয়া আন্তা আর্হামুর্ রা-হিমীন।

(সূরা আম্বিয়াঃ আয়াত-৮৩)

তৃতীয় রাকাতে সূরা ফাতেহার পর ১০০ বার পড়বেন-

وافوضُ امری الی الله ، انَّ اللهَ بصيربالعباد٠

উচ্চারণ- ওয়া ওফাওয়িদ্বু আমরী ইলাল্ল্লাহ, ইন্নাল্লাহা বাছিরুম বিল ইবাদ।

(সূরা হা-মিমঃ আয়াত-৪৪)।

চতুর্থ রাকাতে সূরা ফাতেহার পর ১০০ বার পড়বেন-

حسبنا اللهُ ونعم الوكيلُ٠

উচ্চারণ- হাছবুনাল্লাহু ওয়া নি‘য়মাল ওয়াকিল।

(সূরা আল কামারঃ আয়াত-১০)

হযরত মাওলানা শাহ আব্দুল আজিজ (রঃ) বলেন, ইমাম জাফর সাদিক (রঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, এই চার আয়াতে ইসমে আজম নিহিত। এর ওছিলায় যে কোন সওয়াল ও দোয়া কবুল করা হয়। তিনি আরো বলেন, আমি সেই ব্যক্তি সম্পর্কে  আর্শ্চযান্বিত হই , যে ব্যক্তি এই আয়াতসমূহের ওছিলা নিয়ে দোয়া করে অথচ তার দোয়া কবুল হল না। (আনওয়ারুছ ছালিকিন)

১১. কোরআন খতমের মাধ্যমে মকছুদের হাসিলের আমল

 খতম পড়ার নিয়ম

শুক্রবারে সূরা বাক্বারার প্রথম হতে সূরা মায়েদার শেষ পর্যন্ত, শনিবারে সূরা আনআম হতে সূরা তওবার শেষ পর্যন্ত, সোমবারে সূরা ত্বাহা হতে সূরা কাছাছ এর শেষ পর্যন্ত, মঙ্গলবারে সূরা আনকাবুত হতে সূরা ছোয়াদ এর শেষ পর্যন্ত এবং বৃহস্পতিবারে সূরা ওয়াক্বেয়া হতে কোরআনের শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করে সিজদায় পতিত হয়ে নিজের মকছুদের জন্য আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে দোয়া করলে তা কবুল হয়। এই খতমের মাধ্যমে সব রকম মকছুদ পুরা হয়ে থাকে। ইহা খুবই পরীক্ষিত আমল। (আমালে কোরআনী)

১২. সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াতের মাধ্যমে মকছুদ হাসিল

বোজর্গানে দ্বীন বলেছেন যে, যে ব্যক্তি কোনো মকছুদ হাসিলের জন্য সূরা ইয়াসিন এই নিয়মে পাঠ করাবেন যে, ১/৩/৫/৭ জন ব্যক্তি পরস্পর মিলে খালিছ নিয়তে উক্ত সূরা তিলাওয়াত করবেন এবং তিলাওয়াত আরম্ভ করার পূর্বে ১০০ বার দুরূদ শরীফ পড়বেন। আল্লাহ তা’য়ালার হুকুমে সেই মকছুদ হাসিল হবে। এটা পরীক্ষিত আমল।

১৩. বিশেষ দোয়া তিলাওয়াতের মাধ্যমে উদ্দেশ্য হাসিল

মোকাতেল ইবনে হোব্বান হতে বর্ণিত আছে যে, যে ব্যক্তি ফজরের নামাজের পরে কারো সাথে কোন কথা না বলে জায়নামাজে বসে ১০০ বার নিচের দোয়াটি পাঠ করে আল্লাহর নিকট মোনাজাত করবে তাঁর দোয়া কবুল হবে। দোয়াটি হলো-

بسم الله الرحمن الرحيم٠ ولا حول ولا قوة الا باللهِ العلی العظيم٠ يا قادير، يا كريمُ، يا فردُ، يا وترُ، يا واحدُ، يا صمدُ، يا حیُّ، يا قيومُ، ذول جلال والاكرام٠

উচ্চারণ- বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহীম। ওয়ালা হাওলা ওয়ালা ক্বুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আ’লিয়িল আ’জিম। ইয়া ক্বা-দীরু, ইয়া কারীমু, ইয়া ফারদু, ইয়া উইতরু, ইয়া ওয়াহিদু, ইয়া সামাদু, ইয়া হাইয়্যু, ইয়া ক্বাইয়্যুমু, জুলঝালালি ওয়াল ইকরাম

১৪. গুরুত্বপূর্ণ ইসিম মোবারক দিয়ে জিকির করার মাধ্যমে দোয়া কবুলের নিয়ম

ছুরারিন নাজীম কিতাবে লিখিত আছে, আল্লাহ তা’য়ালার এই পবিত্র নাম কয়টি জিকির করে দোয়া করলে নিঃসন্দেহে দোয়াকারীর দোয়া কবুল হবে।

দোয়াটি হলো-

يا حنانُ يا منانُ يا بديعَ  السمٰوات والارضِ٠

উচ্চারণ- ইয়া হান্নানু, ইয়া মান্নানু, ইয়া বাদিয়াছ্ ছামাওয়াতি ওয়াল আরদি।

যোগাযোগ

০১৭১৬-৩৮৬৯৫৮

nazruld@yahoo.com

 

 

What do you think?

0 points
Upvote Downvote

Comments

Leave a Reply

Loading…

0

Comments

0 comments

খতমে খাজেগান পড়ার নিয়ম

তাজবীদ শিক্ষা (আল কাউলুছ ছাদিদ)