Menu

ইসলামিক বাংলা ব্লগ

in , , , , , ,

আমালিয়াত শেষ অংশ (কোরআন ও হাদিসের আলোকে লিখিত)

কোরআন ও হাদিসের আলোকে আমালিয়াত শেষ অংশ

আমালিয়াত শেষ অংশ লেখার পূর্বে আমি আল্লাহপাকের শুকরিয়া আদায় করছি। যিনি আমাকে আমালিয়াত শেষ অংশ লেখার তাওফিক দান করলেন।

আলোচনার শেষ অংশে এসে একথা দৃঢ়তার সাথে বলা যায় যে, মহান আল্লাহ তা’য়ালা প্রতিটি মানুষের দোয়া শ্রবন করেন এবং তা কবুল করে থাকেন। কারো দোয়া সাথে সাথে কবুল করেন আবার কারো দোয়া কবুলে বিলম্ব করেন আবার কারো দোয়া আখেরাতের জন্য রেখে দেন।

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, الدُّعَاءُ هُوَ الْعِبَادَةُ দোয়া হল ইবাদত।

আল্লাহ বলেন, اُدْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ، إِنَّ الَّذِيْنَ يَسْتَكْبِرُوْنَ عَنْ عِبَادَتِيْ سَيَدْخُلُوْنَ جَهَنَّمَ دَاخِرِيْنَ

অর্থ: তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব। যারা অহংকার বশে আমার ইবাদত হতে বিমুখ হয়, সত্বর তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে লাঞ্ছিত অবস্থায়। এখানে ‘ইবাদত’ অর্থ দোয়া।

আল্লাহ আরও বলেন,

وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيْبٌ أُجِيْبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ فَلْيَسْتَجِيْبُوْا لِي وَلْيُؤْمِنُوْا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُوْنَ-

অর্থ: আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে আমার বিষয়ে জিজ্ঞেস করে, তখন বলে দাও যে, আমি তাদের অতীব নিকটবর্তী। আমি আহবানকারীর আহবানে সাড়া দিয়ে থাকি, যখন সে আমাকে আহবান করে। অতএব তারা যেন আমার আদেশ সমূহ পালন করে এবং আমার প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে। যাতে তারা সুপথ প্রাপ্ত হয়।

রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, مَنْ لَمْ يَدْعُ اللهَ سُبْحَانَهُ غَضِبَ عَلَيْهِ যে ব্যক্তি মহান আল্লাহকে ডাকে না, তিনি তার উপরে ক্রুদ্ধ হন।

তিনি বলেন, لَيْسَ شَىْءٌ أَكْرَمَ عَلَى اللهِ سُبْحَانَهُ مِنَ الدُّعَاءِ  মহান আল্লাহর নিকট দোয়ার চাইতে অধিক মর্যাদাপূর্ণ বিষয় আর কিছু নেই।

হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা) এরশাদ করেন, মুসলমান যখন অন্য কোন মুসলমানের জন্য দোয়া করে, যার মধ্যে কোনরূপ গোনাহ বা আত্মীয়তা ছিন্ন করার কথা থাকে না, আল্লাহ পাক উক্ত দোয়ার বিনিময়ে তাকে তিনটির যেকোন একটি দান করে থাকেন।
(১) তার দোয়া দ্রুত কবুল করেন অথবা
(২) তার প্রতিদান আখেরাতে প্রদান করার জন্য রেখে দেন অথবা
(৩) তার থেকে অনুরূপ আরেকটি কষ্ট দূর করে দেন। একথা শুনে ছাহাবীগণ উৎসাহিত হয়ে বললেন, তাহলে আমরা বেশী বেশী দোয়া করব। রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, আল্লাহ তার চাইতে আরও বেশী দোয়া কবুলকারী। এজন্য সর্বদা পরস্পরের নিকট দোয়া চাইতে হবে।

ভাল ছাত্র হওয়ার উপায় জানতে চাইলে ভিজিট করুন

 দোয়া কবুলের কতিপয় শর্ত
(১) শুরুতে এবং শেষে হামদ ও দরূদ পাঠ করা

(২) দোয়া আল্লাহর প্রতি খালেছ আনুগত্য সহকারে হওয়া
(৩) দোয়ায় কোন পাপের কথা কিংবা আত্মীয়তা ছিন্ন করার কথা না থাকা
(৪) খাদ্য-পানীয় ও পোষাক হালাল ও পবিত্র হওয়া
(৫) দোয়া কবুলের জন্য ব্যস্ত না হওয়া
(৬) নিরাশ না হওয়া ও দোয়া পরিত্যাগ না করা
(৭) উদাসীনভাবে দোয়া না করা এবং দোয়া কবুলের ব্যাপারে সর্বদা দৃঢ় আশাবাদী থাকা।

তবে আল্লাহ ইচ্ছা করলে যে কোন সময় যে কোন বান্দার এমনকি কাফের-মুশরিকের দোয়াও কবুল করে থাকেন, যদি সে অনুতপ্ত হৃদয়ে ক্ষমা চায়।

দোয়ার আদব

(১) কাকুতি-মিনতি সহকারে ও গোপনে হওয়া।

(২) একমনে ভয় ও আকাংখা সহকারে এবং অনুচ্চ শব্দে অথবা মধ্যম স্বরে হওয়া।
(৩) সারগর্ভ ও তাৎপর্যপূর্ণ হওয়া।

দোয়া কবুলের স্থান ও সময়

আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব’। এতে বুঝা যায় যে, যে কোন স্থানে যে কোন সময় যে কোন ভাষায় আল্লাহকে ডাকলে তিনি সাড়া দিবেন। তবে ছালাতের মধ্যে আরবী ব্যতীত অন্য ভাষায় দোয়া করা যাবে না। দোয়ার জন্য হাদীছে বিশেষ কিছু স্থান ও সময়ের ব্যাপারে তাকীদ এসেছে, যেগুলি সংক্ষেপে বর্ণিত হল

(১) কুরআনী দোয়া ব্যতিরেকে হাদীছে বর্ণিত দোয়া সমূহের মাধ্যমে সিজদায় দোয়া করা
(২) শেষ বৈঠকে তাশাহ্হুদ ও সালামের মধ্যবর্তী সময়ে
(৩) জুম‘আর দিনে ইমামের মিম্বরে বসা হতে সালাম ফিরানো পর্যন্ত সময়কালে
(৪) রাত্রির নফল ছালাতে
(৫) ছিয়াম অবস্থায়
(৬) রামাদ্বান মাসের ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ বেজোড় রাত্রিগুলিতে
(৭) ছাফা ও মারওয়া পাহাড়ে উঠে বায়তুল্লাহর দিকে মুখ করে দু’হাত উঠিয়ে
(৮) হজ্জের সময় আরাফার ময়দানে দু’হাত উঠিয়ে
(৯) মাশ‘আরুল হারাম অর্থাৎ মুযদালিফা মসজিদে অথবা বাইরে স্বীয় অবস্থান স্থলে ১০ই যিলহাজ্জ ফজরের ছালাতের পর হতে সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত দোয়া করা
(১০) ১১, ১২ ও ১৩ই যিলহাজ্জ তারিখে মিনায় ১ম ও ২য় জামরায় কংকর নিক্ষেপের পর একটু দূরে সরে গিয়ে দু’হাত উঠিয়ে দোয়া করা
(১১) কাবাগৃহের ত্বাওয়াফের সময় রুকনে ইয়ামানী ও হাজারে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে।
(১২) ‘কারু পিছনে খালেছ মনে দোয়া করলে, সে দোয়া কবুল হয়। সেখানে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত থাকেন। যখনই ঐ ব্যক্তি তার ভাইয়ের জন্য দোয়া করে, তখনই উক্ত ফেরেশতা ‘আমীন’ বলেন এবং বলেন তোমার জন্যও অনুরূপ হোক। এতদ্ব্যতীত অন্যান্য আরও কিছু স্থানে ও সময়ে। 

আমালিয়াত শেষ অংশ সমাপ্ত। আল্লাহপাক যেন আমাদের সবাইকে ক্ষমা করেন। আমীন!!!

তেলেসমাতে হায়ওয়ানাত কিতাবটি পড়তে চাইলে এখানে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Exit mobile version