Menu

ইসলামিক বাংলা ব্লগ

in

নারীদের সম্পর্কে কয়েকটি হাদিস নিয়ে আজকের আলোচনা

নারীদের সম্পর্কে কয়েকটি হাদিস

নারীদের সম্পর্কে কয়েকটি হাদিস জেনে রাখা নারী-পুরুষ সকলের জন্য আবশ্যক। একজন নারীর মর্যাদা এই হাদিসগুলোতে তুলে ধরা হয়েছে। কাজেই নারীদের সম্পর্কে কয়েকটি হাদিস নিয়ে কিছু বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে এই আর্টিকেলে।

নারী জাতি সম্পর্কে রাসূল (সাঃ) এর কতিপয় হাদিস

নারীজাতি সম্পর্কে রাসূল (সাঃ) এর কতিপয় হাদিস যাতে নারীদের মর্যাদা, গুরুত্ব, কর্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি নারীদের পথচলার দিক নির্দেশনা রয়েছে বর্ণিত হাদিসসমূহে।

১. নবী করীম (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, যে মহিলা সময় মত পাঁচ ওয়াক্ত নামায এবং রমযান মাসের রোযা রাখে এবং নিজের চরিত্র বা ইজ্জতের হিফাযত করে, স্বীয় স্বামীর বাধ্য থাকে (অবাধ্য হয় না), সে মহিলার বেহেস্তের ৮টি দরজার যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা হয় প্রবেশ করার অধিকার থাকবে।

২. রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) এর নিকট এক ব্যক্তি প্রশ্ন করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) ! অমুক মহিলা অধিক হারে নফল নামায, নফল রোযা ও দান-ছদকা করেন কিন্তু প্রতিবেশীকেও মুখের (গাল-মন্দ) দ্বারা কষ্ট প্রদান করেন। রাসূল (সাঃ) উত্তর করলেন, এই মহিলা দোযখে প্রবেশ করবে।  পুনরায় ঐ ব্যক্তি আরয করলেন যে, ইয়া রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) ! অমুক মহিলা নফল নামায, রোযা এবং দান-খয়রাত অধিক হারে করেন না, এমনিতেই সামান্য কিছু পনিরের টুকরা দান করে থাকেন। কিন্তু মুখের (গাল-মন্দ) দ্বারা প্রতিবেশীকে কষ্ট দেন না। রাসূল (সাঃ) বললেন, এই মহিলা জান্নাতে যাবে।

৩. রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) ইরশাদ করেন, কোন মহিলার নিজের ঘরে পারিবারিক কাজ সমাধা করা জিহাদের মর্যাদা লাভ করার সমান।

৪. নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, হে রমণীগণ, আমি তোমাদেরকে দোযখের মধ্যে অধিক হারে জ্বলতে দেখেছি। কতিপয় মহিলা জিজ্ঞেস করলেন, এর কারণ কি? রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) উত্তর দিলেন, তোমরা সকল বস্তুর ওপর আল্লাহর গযবের কথা অধিক বলে থাক (অর্থাৎ এ কথা বল যে, অমুকের ওপর আল্লাহর গযব নাযিল হোক এবং অভিশাপ ও বদ দু’আ বেশি বেশি কর) এবং স্বামীর অকৃতজ্ঞতা খুব বেশি কর এবং স্বামী প্রদত্ত জিনিসকে অপছন্দ কর।

৩০টি আজব দ্রব্যগুণের টোটকা যাদু শিখতে ভিজিট করুন

৫. হযরত আসমা বিনতে এজীদ আনসারী বলেন, একদা আমি রাসূল (সাঃ) এর খেদমতে আরয করলাম, ইয়া  রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) ! মহিলাদের প্রতিনিধি হয়ে আপনার নিকট এসেছি (অর্থাৎ মহিলাগণ আমাকে এই বলে পাঠিয়েছে) যে, পুরুষগণ জুমার নামায এবং জামাতে শরীক হওয়া, রোগীর সেবা যত্ন করা, জানাযার নামায, হজ্জ, ওমরা ও ইসলামী রাষ্ট্রের সীমানা রক্ষক হিসাবে আমাদের ওপর প্রাধান্য লাভ করেছে। উত্তরে রাসূল (সাঃ) বললেন যে, তুমি ফিরে গিয়ে মহিলাদেরকে জানিয়ে দাও যে, তোমরা তোমাদের স্বীয় স্বামীর জন্য সাজ-সজ্জা কর অথবা স্বামীর হক আদায় কর এবং স্বামীর সন্তুষ্টির প্রতি লক্ষ্য রাখা ও স্বামীর সন্তুষ্টি অনুযায়ী চলার দ্বারাই ঐ সমস্ত (জুমার নামায, জামাত ইত্যাদির) আমলের সাওয়াব অর্জন করতে পারবে।

৬. রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, এমন রমণীদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক যারা রাত্রিতে জাগ্রত হয়ে তাহাজ্জুদ নামায পড়ে এবং নিজের স্বামীকেও তাহাজ্জুদ পড়ার জন্য জাগ্রত করে।

৭. রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, ঐ স্ত্রীগণ সর্বোত্তম যাদের দিকে স্বামী তাকালে পরে স্বামীকে সন্তুষ্ট করে দেয় এবং স্বামী যখন তাদেরকে কোন কাজের নির্দেশ দেয় তখন স্বামীর আদেশ পালন করে এবং স্বীয় জান-মালের ব্যাপারে স্বামীকে অসন্তুষ্ট করে তার বিরুদ্ধাচরণ না করে।

৮. রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) আরও বলেছেন, যখন কোন স্ত্রী নিজ স্বামীকে দুনিয়াতে কষ্ট দেয় তখন তাকে উক্ত স্বামীর বেহেস্তী হুরগণ বলতে থাকে, তুমি ধ্বংস হও। সে তোমার মেহমান, সে অতি শীঘ্রই তোমাকে ছেড়ে আমাদের নিকট চলে আসবে।

৯. রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) আরও ইরশাদ করেছেন, সর্বশ্রেষ্ঠ ঐ রমণী যে স্বীয় ইজ্জত-আবরুর হিফাজত করে এবং স্বীয় স্বামীর প্রতি আসক্ত থাকে।

১০. অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহ্ ঐ রমণীকে ভালবাসেন যে রমণী স্বীয় স্বামীকে মনে-প্রাণে ভালবাসে ও আনন্দ দেয় এবং পর পুরুষ হতে নিজেকে রক্ষা করে।

১১. রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, কোন মহিলা অপর মহিলার সাথে সাক্ষাত করার পর স্বীয় স্বামীর নিকট তার বর্ণনা যেন এমনভাবে না দেয় যাতে স্বামীর চোখে ঐ মহিলার ছবি ভেসে উঠে।

১২. রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, ঐ সমস্ত দোযখী মহিলা যাদেরকে আমি এখন দেখি না যারা আমার যামানার পর জন্ম লাভ করবে (তাদের অবস্থা এমন হবে) যে, কাপড় পরিধান করার পরও তাদেরকে উলঙ্গ মনে হবে অর্থাৎ নামমাত্র শরীরে কাপড় থাকবে, কিন্তু কাপড় এত চিকন ও পাতলা হবে যে, সমস্ত শরীর দেখা যাবে। রং ঢং করে শরীরকে হেলিয়ে দুলিয়ে চলবে এবং চুলকে ফিতা বা কাপড় দ্বারা পেচিয়ে এমনভাবে খোঁপা বাঁধবে যাতে বেশি চুল বলে মনে হবে, দেখতে উঠের পিঠের মত মনে হবে। এমন মহিলারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না।

১৩. রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, যে মহিলা অপর পুরুষ বা মহিলাকে দেখানোর জন্য অলংকার ও পোশাক পরিধান করবে (কিয়ামতের দিবসে) ঐ অলংকার দ্বারাই তাকে শাস্তি প্রদান করা হবে।

আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার উপকারিতা নিয়ে আলোচনা ও বিভিন্ন ঔষধের নাম শিখতে ভিজিট করুন

যোগাযোগ: মো: নজরুল ইসলাম, ০১৭১৬-৩৮৬৯৫৮

Leave a Reply

Exit mobile version