in

তেলেসমাতে হায়ওয়ানাত (২য় পর্ব)

ইমাম কামাল উদ্দিন দারেমী (রহ) তার আরাবি কিতাব হাইয়াতুল হায়ওয়ান’ নামক গ্রন্থে প্রাণীদের উপকারীতা ও গুণাগুণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন। আমি কেবল প্রাণীদের তেলেসমাত সংক্রান্ত কতিপয় অবাক করা বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।

  ام الصبيان  কাকে বলে?

 ام الصبيان  কাকে বলে এ ব্যাপারে মতভেদ আছে। কেহ কেহ বলেন- পেঁচাকে উম্মুস্ সিবিয়ান বলে।

কেহ কেহ বলেছেন- পেঁচার প্রভাবে যে রোগ হয় তাকে উম্মুস্ সিবিয়ান বলে।

১. পেঁচাকে জবাই করলে তার একটি চোখ বন্ধ থাকে এবং একটি চোখ খোলা থাকে। খুলে থাকা চোখের বৈশিষ্ট্য হল-

যদি এই চক্ষুটি আংটির নগের নীচে রাখা হয় তাহলে পরিধানকারীকে হাত থেকে আংটি না খোলা পর্যন্ত সে আর নিদ্রা যেতে পারবে না। অর্থাৎ ঘুম বন্ধ হয়ে যাবে।

আর অপর চোখটির বৈশিষ্ট্য হল এর বিপরীত। অর্থাৎ বন্ধ চোখটি আংটির নগের নীচে স্থাপন করে হাতে পরিধান করে ঘুমালে সে আর ঘুম থেকে জাগ্রত হতে পারবে না। যতক্ষন না হাত থেকে আংটি খোলা হয়।

তিবরী বলেন- যদি উভয় চোখ পাওয়া যায় তাহলে বন্ধ কোনটি আর খোলা কোনটি তা পার্থক্য করার ব্যবস্থা হল-

চক্ষু দু’টি পানিতে ছেড়ে দিলে যে চোখটি পানিতে ভেসে উঠবে তা খোলা চোখ আর যেটি ডুবে যাবে সেটা বন্ধ চোখ।

২. হারমাস লিখেছেন- প্যাঁচার কলিজা যদি ঘুমন্ত কোনো মহিলার হাতে রেখে দেয়া হয় তাহলে দিনের বেলায় মহিলা যা কিছু করেছে সব গোপন কথা ঘুমের মধ্যে বলে দিবে।

৩. প্যাচার পিত্ত্বকে শুকিয়ে সুরমা বানিয়ে চোখে ব্যবহার করলে দৃষ্টি শক্তির জন্য বেশ উপকার হবে।

৪. কোনো বড় প্যাচার কলিজা যদি ভেড়ার চামড়ায় মুড়িয়ে হাতের কব্জিতে বেঁধে রাখা হয় তাহলে পোকা-মাকড়, চোর-ডাকাত থেকে নিরাপদ থাকবে, কোনো লোককে সে ভয় করবে না।

৫. কেহ যদি প্যাচার চর্বি গলিয়ে চোখে সুরমার মত ব্যবহার করে তাহলে অন্ধকার রাতে যেখানেই যাবে সমস্ত রাস্তাই তার নিকট আলোকিত মনে হবে।

৬. প্যাচার গোস্ত খেলে মানুষ নির্বোধ হয়ে যায়।

৭. কারো যদি বহুমুত্র রোগ হয় তাহলে প্যাচার পিত ঝাউ নামক উদ্ভিদের ভষ্ম (ঝাউ হল সমুদ্র তীরের এক প্রকার উদ্ভিদ) মধুর সহিত মিশ্রিত করে পান করলে আল্লাহর রহমতে এ রোগ থাকবে না।

৮. কোনো শিশু যদি রাতে বিছানায় পেশাব করে তাহলে উপরে বর্ণিত ঔষধ ব্যবহার করলে আর পেশাব করবে না।

৯. কারো মুখের মধ্যে যদি অর্ধাংগের বাতাস লাগে তাহলে তাড়াতাড়ি প্যাচা জবাই করে এর কলিজা সে আক্রান্ত স্থানে লাগালে ভাল হয়ে যাবে।

১০. প্যাচার রক্ত তৈলে মিশ্রিত করে মাথায় ব্যবহার করলে মাথার উকুন মরে যাবে।

একটি বিস্ময়কর কাহিনী

আবু নাঈম “হুলিয়া” নামক কিতাবে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করে বলেন যে, একদা আমি হযরত ওমর (রাঃ) এর পাশে বসা ছিলাম। সেখানে হযরত কাব আহবার (রাঃ) ও উপস্থিত ছিলেন। হযরত কাব আহবার (রাঃ) হযরত উমর (রাঃ) কে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমিরুল মুমিনীন! আমি কি আপনাকে একটি বিস্ময়কর কাহিনী শুনাতে পারি; যা নবীদের জীবনী গ্রন্থে আমি পেয়েছি।

আমিরুল মুমিনীন হযরত উমর (রাঃ) ইজাজত দিলে তিনি কাহিনীটি বর্ণনা করেন-

কাহিনী হল

একদা হযরত সুলাইমান ইবনে দাউদ (আঃ) এর নিকট এক প্যাচা এসে বলল, আছছালামু আলাইকা ইয়া নাবীয়াল্লাহ!

তিনি জবাব দিলেন, ওয়া আলাইকাচ্ছালাম ইয়া হাম্মাহ! তারপর হযরত সুলাইমান (আঃ) প্যাচাকে জিজ্ঞেস করলেন আচ্ছা বলত-

(১) তুই শষ্যদানা কেন খাস না?

প্যাচা জবাব দিল, হযরত আদমকে এ কারণে বেহেস্ত থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল।

(২) তুই পানি কেন পান করস না?

প্যাচা জবাব দিল, কওমে নূহ পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার কারণে আমি পানি পান করি না।

(৩) তুই জনবসতিতে না থেকে অনাবাদি (বিরান) ভূমি কেন পছন্দ করিস?

প্যাচা বলল, পতিত ভূমি আল্লাহ পাকের মিরাশ। আমি আল্লাহ পাকের মিরাশেই বসবাস করি।

(৪) তুই যখন কোনো বিরান ভূমিতে বসিস তখন কি বলিস?

প্যাচা বলল, আমি তখন বলি, তারা কোথায় গেল যারা অতি আরামে এখানে বসবাস করেছিল।

(৫) তুই যখন জনবসতি দিয়ে উড়ে যাস, তখন কি বলিস?

প্যাচা বলল, তখন আমি বলি, বনি আদমের উপর ধ্বংস, কিভাবে তাদের ঘুম আসে? অথচ বিপদের তুফান তাদের সম্মুখে রয়েছে।

(৬) তুই দিনের বেলা বের হস না কেন?

প্যাচা জবাব দিল- মানুষ একে অপরের প্রতি অন্যায় অবিচার করে বলে, আমি দিনের বেলা বের হই না।

(৭) তুই যে সব সময় ডাকাডাকি করিস এর মধ্যে তোর কি কোনো সংবাদ থাকে?

প্যাচা বলল- আমি ডাকাডাকির মাধ্যমে মানুষকে সংবাদ দেই ‘ওহে গাফেল লোকেরা! পথের সম্ভল এবং পরকালীন সফরের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাও।

প্যাচার এই উত্তরগুলো শুনে সুলাইমান (আঃ) বললেন, পাখিদের মধ্যে প্যাচার চাইতে অধিক মঙ্গল কামী এবং সহমর্মী কোনো পাখি নেই।

অথচ জাহিল লোকদের অন্তরে প্যাচার চাইতে নিকৃষ্ট পাখি আর কোনটি নেই।

২য় পর্ব সমাপ্ত

৩য় পর্ব পড়তে চাইলে

What do you think?

0 points
Upvote Downvote

Comments

Leave a Reply

Loading…

0

Comments

0 comments

তেলেসমাতে হায়ওয়ানাত (১ম পর্ব)

তেলেসমাতে হায়ওয়ানাত (৩য় পর্ব)