প্রথম অধ্যায়, ২য় পর্ব

লেখক: হযরত মাওলানা ক্বারী মো: নজরুল ইসলাম সাহেব, ভাদেশ্বরী। (এমএম, এমএ)

বিশেষ দ্রষ্টব্য: সময়ের স্বল্পতাহেতু সকল আয়াত বা বাক্যের হরকত দেয়া সম্ভব হয়নি।

ইনশাহ আল্লাহ ধীরে ধীরে প্রতিটি আয়াত বা বাক্যের হরকত সংযোজন করা হবে তথা যের, যবর, পেশ সংযোজন করা হবে। তাই আপডেট পেতে সাথে থাকুন।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহী” আয়াতের আমল ও উপকারীতা বিভিন্ন কিতাব থেকে নিচে বর্ণনা করছি- 

১. ৭দিন পর্যন্ত ‘‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” ৭৮৬ বার কোন রোগীর উপর পড়ে দম করলে উক্ত রোগীর রোগ আরোগ্য হয়। 

২. ‘‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” ৫০ বার পড়ে কোনো জালিমের মুখে দম করলে জালিমের জুলুম থেকে নাজাত পাওয়া যায়। 

৩. ‘‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” প্রতিদিন ৭৮৬ বার পড়লে সকল প্রয়োজনীয়তা পুরা হয়। 

৪. ঘুমানোর সময় ৫০ বার ‘‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” পাঠকারীকে আল্লাহ তা’য়ালা সব রকম বালা-মুসিবত হতে হেফাজতে রাখেন। 

৫. কোনো বিশেষ রোগীর উপর ৩দিন পর্যন্ত প্রতিদিন ১০০ বার ‘‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” পড়ে দম করলে রোগী আরোগ্য লাভ করে।

৬. মৃগী রোগীর কানে ৪০ বার ‘‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” পড়ে দম করলে তার পাগলামী ভাল হয়। 

৭. বিপদগ্রস্থ ব্যক্তি অথবা কষ্টের মধ্যে আবদ্ধ অথবা লাল দাগ বিশিষ্ট রোগীর উপর ৩দিন ব্যাপী ১০০০ বার ‘‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” পাঠ করে দম করলে মুক্তি পাওয়া যায়। 

৮. কয়েদী অথবা বন্ধ করে রাখা ব্যক্তির মুক্তির উদ্দেশ্যে ৭৮৬ বার ‘‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” পড়লে কয়েদী থেকে মুক্তি হওয়া যায়। 

৯. জুম্মার দিনে ১২৩ বার ‘‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” পাঠ করে আল্লাহ তা’য়ালার নিকট দুনিয়া অথবা আখেরাতের মঙ্গলের জন্য যে প্রার্থনা করবে, আল্লাহপাক এই দোয়া পূর্ণ করে দিবেন। 

১০. ‘‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” এর হরফগুলোর বিশ্লেষণ করে এর সংখ্যার হিসেব মোতাবেক কিছু পানিতে পড়ে দম করে যাকে ভালবাসতে চাও, তাকে ঐ পড়া পানি পান করালে সে তোমাকে ভালবাসতে আরম্ভ করবে।

১১. কোন বরতনের উপর ‘‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” লিখে পানিতে ধৌত করে মেধাহীন ব্যক্তি পান করলে তার মেধাশক্তি ও মুখস্ত শক্তি বাড়বে। 

১২. যদি কোনো ব্যক্তি প্রতিদিন ১৫০ বার ‘‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” পড়ে তাহলে আল্লাহ তা’য়ালা তাঁকে জ্ঞান-বিজ্ঞানের গোপন রহস্য ও বাতিনি ভেদসমূহ অবগত হওয়ার জ্ঞান দান করবেন। 

১৩. চল্লিশ দিন পর্যন্ত ফজরের নামাজের পর প্রতিদিন ১০০০ বার ‘‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” পাঠকারীর কশফ খুঁলে যায় এবং আল্লাহর ইলহাম অবগত ও জ্ঞানের তথ্য ভান্ডার এবং যা কিছু দুনিয়ার মধ্যে সংঘঠিত হয় এই সব কিছু দেখতে পায়, অর্থাৎ তার ইলমের মধ্যে প্রকাশিত হয়ে যায়। 

১৪. পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর ২৫০০ বার ‘‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” পাঠকারীকে প্রত্যেক জিনিসের সংঘটিত ঘটনাবলি বুঝার শক্তি প্রদান করা হয়ে থাকে। 

১৫. যদি কাউকে শাস্তি দিতে চান তাহলে এক সপ্তাহ এশার নামাজের পর (বেতর নামাজের আগে) ১২ রাকাত নফল নামাজ এই নিয়মে পড়বেন যে, প্রত্যেক  রাকাতে আয়াতুল কুরসী ১০ বার, সূরা মাউন ১০ বার, সূরা এখলাছ ১০ বার, সূরা ফালাক ১০ বার, সুরা নাছ ১০ বার, এভাবে ১২ রাকাত নামাজ শেষ করবেন। ‘‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” বিশ্লেষণ করে তার হরফের সংখ্যার মোয়াফিক “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” পড়বেন। তারপর ১০০০ বার দুরুদ শরীফ পড়ার পর বেতর নামাজ পড়বেন এবং এই আমল ৭দিন পর্যন্ত করবেন। ৭ম রাতে ‘‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” রেশমী কাপড়ে লিখে নিজের বাজুতে বাঁধবেন। যখন ১ থেকে শুরু করে ৭০ জন লোকের সাক্ষাত হয়ে যাবে তখন (যাকে বা যাদেরকে শাস্তি দিতে ইচ্ছুক নিজের আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করবেন। তাহলে এরা মাটিতে পড়ে যাবে। এরপর যাদেরকে উঠয়ে আনতে চাইবেন তাদের কানের মধ্যে ১ বার “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” পাঠ করবেন তাহলে সে উঠে বসবে। আর মাটিতে পতিত ব্যক্তিরা খোঁড়া বা লেংড়া হয়ে যাবে। হাজত পুরা হওয়ার পর এই নকশা বাজু হতে খুলে আলাদা নিরাপদ ও পাক জায়গায় রেখে দিবেন। আবার প্রয়োজন হলে বাজুতে বাঁধবেন এবং শাস্তির ব্যবস্থা করবেন। 

১৬. হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে, কিয়ামতের দিন যে ব্যক্তির আলনামার মাঝে ৩০০ বার ‘‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” ইয়াকিনের সাথে পাঠ করেছে বলে প্রমাণিত হবে আল্লাহ তা’য়ালা ঐ ব্যক্তিকে দোযখ থেকে মুক্তি দান করে জান্নাতের মধ্যে প্রবেশ করাবেন। 

অপর একটি ঘটনা 

হযরত ঈসা (আ) একটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই কবরে শায়িত মৃতের ওপর চরম আযাব হচ্ছিল। এটা দেখে তিনি কিছু দূর এগিয়ে গেলেন। সেখান থেকে শৌচকর্ম সেরে ফেরার সময় আবার যখন সে কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন দেখলেন যে, কবরটিতে পরিপূর্ণ আলোয় ঝলমল করছে এবং সেখানে রহমতে এলাহীর বর্ষণ হচ্ছে। তিনি চরম আশ্চার্যান্বিত হলেন এবং আল্লাহর দরবারে আরজ করলেন আমাকে এর রহস্য বলুন! ঘোষণা হল, হে রুহুল্লাহ! এই লোক চরম পাপী ও বদ অভ্যাসি ছিল। এজন্য সে আযাব ভোগ করছিল কিন্তু সে স্বীয়-স্ত্রীকে গর্ভাবস্থায় রেখে এসেছিল। তার একটি পুত্র সন্তান জন্ম নিয়েছে এবং আজ তাকে মক্তবে পাঠানো হয়েছে। সে শিক্ষকের কাছে আজই প্রথম বার উচ্চারণ করেছে ‘‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম”। তখনই আমার লজ্জা হচ্ছিল এবং মায়াও লাগল এই পাপী ব্যক্তির জন্য যে, কিভাবে আমি লোকটাকে কবরে আজাব দিব? কারণ, তার বাচ্চা জমিনে আমার নাম স্বরণ করেছে। তাই আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি।

এতে বোঝা গেল যে, বাচ্ছাদের সৎকর্মের ফলে মাতা-পিতাগণ আযাব হতে পরিত্রাণ পেয়ে থাকেন। 

১৭. ইঞ্জিন শরীফে আল্লহ তা’য়ালা হযরত ঈসা (আ) কে নির্দেশ দিলেন যে, তুমি নামাজ ও ক্বিরাতের প্রথমে ‘‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” পড়ো। কেননা যে ব্যক্তি এটা পড়বে সে মুনকার ও নাকির ফেরেস্তার আযাব থেকে হেফাজত থাকবে আর মৃত্যুর সময় সরকাতুল মউত তার উপর আসান হবে। আর তার জন্য কবর প্রশস্ত হবে এবং যখন কবর হতে উঠবে তখন তার শরীরের জন্য ঘোড়া পয়দা হবে এবং মুখ নুরের দ্বারা চমকাতে থাকবে আর নেকী বদীর হিসেব  তার উপর সহজ করা হবে এবং তার আমলনামা ভারী হবে। এবং এই বিসমিল্লাহ শরীফের বদৌলতে জীবন চলার পথে ততক্ষণ পর্যন্ত আলো দান করবে যতক্ষন পর্যন্ত না পাঠকারীকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। এবং কিয়ামতের দিন মাগফিরাত নসিব হবে। হযরত ঈসা (আ) আরজ করলেন, হে আল্লাহ! এই ফজিলত কাদের জন্য? উত্তরে মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, এটা তোমার জন্য এবং যারা তোমার অনুস্বরণ করবে তাদের জন্য এবং হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর উম্মতের জন্য। তারপর ঈসা (আ) তাঁর অনুসারীদেরকে ‘‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” শিক্ষা দেন। কিন্তু যখন ঈসা (আ) আসমানে তাশরীফ নিলেন তখন তাঁর অনুসারীগণ অজ্ঞতার মধ্যে পড়ে গিয়ে ‘‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” কে নষ্ট করে ফেলে। 

১৮. শায়েখ আবু বকর সিরাজ (র) বর্ণনা করেছেন, যদি কেহ ‘‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” ৬২৫ বার লিখে নিজের সঙ্গে রাখে তবে সকল লোকের মনে তাঁর প্রভাব বসে যাবে এবং কেহই তাঁর অনিষ্ট করতে পারবে না। পরীক্ষা করে এতে ফল পাওয়া গেছে।

১৯. তাফসীরে আযীযীর মধ্যে রয়েছে যে, যে ব্যক্তি কোনো কঠিন বিপদে নিপতিত হবে সে যদি ‘‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” আয়াতটিকে ১২ হাজার বার এই নিয়মে পাঠ করে যে, ১ হাজার তিলাওয়াতের পর ২ রাকাত নফল নামাজ পড়ে নিজের মাকছুদের জন্য দোয়া করবে। এই নিয়মে ১২ হাজার বার খতম করলে যত বড় মকছুদই হউক না কেন, খোদার ইচ্ছায় পুরা হবে। 

২০. একদা রোমের বাদশা কায়ছার দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা) এর নিকট মাথা বেদনার অভিযোগ জ্ঞাপন করত: এর এলাজ প্রার্থনা করেন। হযরত ওমর (রা) তাঁর জন্য একটি টুপি সেলাই করে পাঠিয়ে দিলেন। টুপিটি মাথায় রাখা মাত্রই বেদনা কমে গেল। কায়ছার আশ্চার্যান্বিত হয়ে টুপির সেলাই খুঁলে দেখলেন যে, তাতে লেখা রয়েছে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম”। 

২১. একবার ফকীহ্ মোহাম্মদ জমানী (র) জ্বরে আক্রান্ত হন। তাঁর উস্তাদ ফকীহ্ আলী উমর (র) তাঁকে দেখতে এসে একটি জ্বরের তাবিজ দিয়ে চলে গেলেন। যাবার সময় বলে গেলেন, খবদার! তাবিজটি খুঁলে দেখবে না। তাবিজটি ধারনা করা মাত্রই জ্বর সেরে গেল। ফকিহ মোহাম্মদ জমানী (র) এর কারণ তালাশের উৎসাহ দমন করতে না পেরে তাবিজ খুঁলে দেখেন যে, তাতে লিখা আছে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম”। তাবিজ খুঁলে দেখে ফেলার কারণে তাঁর মনে বিশ্বাসের শিতিলতা এসে যায় এবং জ্বর আবার ফিরে আসে। তখন তিনি তাঁর উস্তাদের নিকট গিয়ে ক্ষমা চেয়ে আরেকটি তাবিজ চাইলেন। উস্তাদ ফকীহ্ আলী উমর (র) তাঁকে আরেকটি তাবিজ লিখে নিজ হাতে বেঁধে দিলেন। খোদার অনুগ্রহে তাবিজ বাঁধা মাত্র জ্বর সেরে গেল। এক বছর পর তিনি ভাবলেন যে, এখন দেখা যাক এই তাবিজটিতে কি লিখা আছে। খুঁলে দেখলেন তাতে লিখা আছে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম”। তখন তাঁর ভক্তি ও বিশ্বাসের অন্ত রইল না। 

২২. তাফসীরে নাঈমীতে বর্ণিত আছে যে, হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা) এর নিকট এক ব্যক্তি বিষ নিয়ে আসল এবং বলল যদি আপনি এ বিষ পান করে সুস্থ থাকতে পারেন তাহলে আমি মেনে নিব যে, ইসলাম ধর্ম সত্য ধর্ম। হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা) তখন “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” পড়ে সেই বিষ পান করে নিলেন। খোদার রহমতে এই বিষ পানে কোন ক্ষতি বা প্রতিক্রিয়া হল না। এমন কারামত দেখে লোকটি সাথে সাথে ঈমান কবুল করল।

আরেকটি হেকায়েত

এক ইহুদী রমনী বিষ মিশ্রিত খাদ্য নবী করীম (সা) ও সাহাবায়ে কেরাম (রা) কে পরিবেশন করেছিল। মহানবী (সা) তা টের পেয়ে হুকুম দিলেন “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” পড়ে খাও। অতঃপর সাহাবায়ে কেরাম (রা) উক্ত গোশত খেলেন কিন্তু তাঁদের কারো কোনো ক্ষকি হয়নি।

হাদীস শরীফে আছে- “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” বলে পানাহার শুরু না করলে শয়তান উক্ত খাদ্যবস্ত নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে। 

একটি প্রশ্ন

কোনো কোনো লোক বলে থাকেন যে, আমরা হাজার বার “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” পড়ে থাকি কিন্তু কোন উপকার হয় না। অথচ হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা) “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” পাঠ করে বিষ পান করে নিলেন; কিন্তু আমরা “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” পড়ে কোনো ভারী খাবারও খেয়ে নিলে তাও আমাদের ক্ষতি হয়ে যায়। এর কি রহস্য হতে পারে?

জবাব

সমস্ত দোয়া ও ওজিফা কার্তুজের মতো আর পাঠকের মুখ বা জবান বন্দুকের মতো। কার্তুজ অবশ্যই সিংহকে আঘাত করে। আমরা আমাদের এ জবানে প্রত্যেহ মিথ্যা, গীবত ইত্যাদি করে থাকি সুতরাং সেই প্রভাব কোথা থেকে আসবে? যদি কোরআনুল কারীমের সেই প্রভাব দেখতে চান তাহলে ভাল জবান তৈরি করুন। একটি কথা অতিব সত্য, আর তা হলো- “খোদাকা কালাম হক হ্যায়” অর্থাৎ- আল্লাহর কালাম সত্য। আমরা সত্য নাও হতে পারি। 

২৩. তাফসীরে নাঈমীতে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তির সামনে কোন কঠিন ও বড় মুছিবত এসে যায় তখন সে নিন্মোক্ত ইবারতটি একটি কাগজে লিখবে-

 بسم اﷲ الرحمٰن الرحيم٠ مِنﹶالعبد  الذليل اليٰ رب الجليل -اني مسني الضر و انت ارحم الراحمين٠

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। মিনাল আ’বদিয্ যালিলে ইলা রাব্বিয্ যালিল। ইন্নি মাছছানিয়াদ্ দুররু ওয়া আনতা আর হামুর্ রাহিমীন।

অর্থাৎ আল্লাহর নামে আরম্ভ যিনি পরম দয়ালু ও করুনাময়। এ ফরিয়াদ অধমের পক্ষ হতে মহান রবের দরবারে এমনি যে, আমি কঠিন বিপদের সম্মুখীন আর তুমি হলে পরম সর্বাধিক দয়ালু। অতঃপর এ লিখিত কাগজের টুকরাটা কোন প্রবাহিত পানির মধ্যে নিক্ষেপ করবে। অতঃপর নিচের দোয়াটি পড়বে-

اللٰهم بمحمد و اله الطيبين الطاهرين و اصحابه المرسلين٠ اقضي حاجتي يا اكرم الاكرمين٠

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বিমুহাম্মাদিও ওয়ালা আলিহিত্ ত্বাইয়্যিবিনাত্ ত্বাহিরিনা ওয়া আছহাবিহিল মোরছালিন। ইক্বদী হা-জাতী, ইয়া আকরামুল আকরামীন।

অর্থাৎ- হে আল্লাহ! হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) এর উছিলায় এবং তাঁর পাক-পবিত্র বংশধরদের উছিলায় ও তাঁর প্রতিনিধীত্বকারী সাহাবীদের উছিলায় আমার চাহিদা পূরণ কর! হে সর্বাধিক দয়ালু।

(হা-জাতী এর স্থলে আপনার উদ্দেশ্যে কি তা উল্লেখ করতে হবে।)

২৪. “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” ৭৮৬ বার কোনো যাদুগ্রন্থ রোগীর উপর দম করলে সাথে সাথে এই যাদু বাতিল হয়ে যাবে। এইভাবে ৭৮৬ বার পড়ে আল্লাহ পাকের দরবারে দোয়া করলে তা কবুল হবে। যদি কোনো ব্যক্তি প্রতিদিন ১৫০ বার “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” তিলাওয়াত করে আল্লাহ্ তা’য়ালা তাঁকে জ্ঞান-বিজ্ঞানের গোপন রহস্য ও বাতিনী ভেদসমূহ অবগত করবেন। যে ব্যক্তি “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” এর অসংখ্য জিকির করবে তাঁর উচ্চস্থর ও নিম্নস্থরের যাবতীয় জ্ঞান অর্জিত হবে। 

২৬. “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” এর অপর বৈশিষ্ট্য ও ফজিলত হল, দিবা রাত্র মিলিয়ে সর্বমোট ২৪ ঘণ্টা । এ থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় পাঁচ ওয়াক্ত নামাযই দখল করে নিয়েছে। আর ১৯ ঘণ্টার জন্য “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” কে যদি কেহ অজিফারূপে পাঠ করতে থাকে তাহলে এর প্রতিটি ঘণ্টা ইবাদতের মধ্যে গণ্য হবে এবং প্রতিটি সময়ে পাপ মোচন হবে। 

২৭. হাজত পূরণের জন্য 

যদি আপনি চান যে, আল্লাহ তা’য়ালা আপনার ইচ্ছা বা হাজত পূর্ণ করেন তবে সূরা ফাতেহা নিচের নিয়মে তিলাওয়াত করবেন। প্রথমে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” পাঠ করে শেষ মিমে যের দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ কে ওছল করে অর্থাৎ মিলিয়ে পাঠ করুন। এই নিয়মে রবিবার ৭০ বার, সোমবার ৬০ বার, মঙ্গলবার ৫০ বার, বুধবার ৪০ বার, বৃহস্পতিবার ৩০ বার, শুক্রবার ২০ বার এবং শনিবার ১০ বার। (আনওয়ারুছ ছালিকিন)

(দ্বিতীয় পর্ব সমাপ্ত)

(৩য় পর্ব পড়তে চাইলে ক্লিক করুন)

What do you think?

0 points
Upvote Downvote

Comments

Leave a Reply

Loading…

0

Comments

0 comments

প্রথম অধ্যায়, ১ম পর্ব

প্রথম অধ্যায়, ৩য় পর্ব