তেলেসমাতে হায়ওয়ানাত (৩য় পর্ব)

ইমাম কামাল উদ্দিন দারেমী (রহ) তার আরাবি কিতাব হাইয়াতুল হায়ওয়ান নামক গ্রন্থে প্রাণীদের উপকারীতা ও গুণাগুণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন। আমি কেবল প্রাণীদের তেলেসমাত সংক্রান্ত কতিপয় অবাক করা বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।

১. ভেড়ীর দুধ দ্বারা কোন কাগজে লিখলে ঐ লেখা দেখা যায় না কিন্তু কাগজটি পানিতে ভিজিয়ে ফেললে, তখন তা স্পষ্টভাবে ভেসে উঠবে।

২. ভেড়ীর শিংয়ে নিচের আয়াত পড়ে দম করে কোন মহিলার শিয়রের নিচে রেখে দিলে তার কাছ থেকে যাবতীয় গোপন ব্যাপারে জানা যাবে। আমলটি পরীক্ষিত। আয়াতটি শীঘ্রই দেয়া হবে।

৩. সাদা বকরির শিং শুকিয়ে এক খন্ড কাপড়ে বেঁধে ঘুমন্ত ব্যক্তির বালিসের নিচে রেখে দিলে যতক্ষন পর্যন্ত উহা না সরাবে ততক্ষন পর্যন্ত জাগ্রত হতে পারবে না।

৪. কোনো ঘুমন্ত মহিলার উপর ব্যাঙের কলিজা রেখে দিলে মহিলার যাবতীয় গোপন ব্যাপার সে ঘুমের মধ্যে বলে দিবে।

৫. যদি কোন মেয়ে লোক পুরুষ খরগোশের পাকস্থলী খায় তাহলে তার ছেলে সন্তান হবে আর স্ত্রী খরগোশের পাকস্থলী খেলে মেয়ে হবে।

৬. কোন মেয়ে লোক যদি খরগোশের বিষ্টা কোমরে ঝুলিয়ে বেঁধে রাখে, তাহলে সে গর্ভবতী হবে না।

৭. ইমাম যাকারিয়া কাযভিনী (রঃ) বলেন, যদি এক দানিক (সাড়ে সাত রতি) খরগোশের মগজ, দুই যব পরিমাণ কর্পুর মিশিয়ে কাউকে পান করানো হয় তাহলে ঐ ব্যক্তিকে যে কেউ দেখবে সেই তাকে ভালবাসবে। এমন ব্যক্তিকে যদি কোনো নারী লোকে দেখে তাহলেও তার প্রতি অনুরাগী হয়ে যাবে। এমনকি তার সাথে থাকার জন্যও আবেদন নিবেদন করতে থাকবে।

৮. কোন মেয়ে লোক যদি খরগোশের মগজ সামান্য পরিমাণ খায় এবং কিছু মগজ তার লজ্জাস্থানে লাগায় এবং সহবাস করে তাহলে আল্লাহর রহমতে সে গর্ভবতী হবে।

৯. খরগোশের মগজ যদি শিশুর দাঁতের মাড়িতে লাগানো হয় তাহলে শীঘ্রহ শিশুর দাঁত উঠবে।

১০. বিছানাতে প্রশ্রাব করা যদি কারো অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায় তাহলে খরগোশের গোস্ত কয়েক দিন খেলে এ অভ্যাস থাকবে না।

১১. খরগোশের চর্বি যদি কোন মহিলার বালিসের নিচে রাখা হয় তাহলে সে মহিলা ইচ্ছা করে গোপন কথা ফাস করে দেবে।

১২. ইমাম রাজি (র) লিখেছেন, শুয়াপোকাকে ধৌত করে শুকিয়ে খুব মিহি করে পিসে তিলের তৈলে মিশিয়ে পুরুষাঙ্গে লাগালে তা খুব মোটা হবে।

১৩. হাকিম জালিনুছ বলেন, মানুষের চুল আগুনে পুড়ে গোলাপ জলে মিশ্রিত করে নারীর মাথায় রাখলে প্রসব বেদনার সময় সহজে প্রসব হবে।

১৪. ১ বছরের শিশুর দাঁত গলায় বেধে দিলে মহিলা গর্ভবতী হবে না।

১৫. মানুষের চুল বেধে লটকিয়ে রাখলে অর্ধ কপালি ব্যাথার জন্য বিরাট উপকার হয়। তাবিজ করে গলায় বাধলে হাপানি রোগেরও উপকার হয়।

১৬. শিশুদের খতনাহকৃত চামড়া শুকিয়ে পিষে মেশক, গোলাপ ইত্যাদিকে মিশিয়ে যদি ধবল, কুষ্ট রোগে লাগানো হয়, তাহলে উপশম হবে। উপরোক্ত দুটি রোগে এ ঔষুধ ব্যবহারের ফলে রোগ থেমে যাবে আর বাড়বে না। তারপর কর্তিত চামড়াকে জ্বালিয়ে পিষে ধবল, কুষ্ট রোগীকে খাওয়ালে সুস্থ হয়ে যাবে।

৩য় পর্ব সমাপ্ত

৪র্থ পর্ব পড়তে চাইলে

What do you think?

0 points
Upvote Downvote

Comments

One Ping

  1. Pingback:

Leave a Reply

Loading…

0

Comments

0 comments

তেলেসমাতে হায়ওয়ানাত (২য় পর্ব)

তেলেসমাতে হায়ওয়ানাত (৪র্থ পর্ব)