দারিদ্র্যের প্রধান কারণ কী কী?
দারিদ্র্যের প্রধান কারণ : দারিদ্র্য শুধু অর্থের অভাব নয়; এটি একটি বহুমাত্রিক সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক বাস্তবতা। অনেক মানুষ পরিশ্রমী হয়েও দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে বের হতে পারে না। আবার কেউ অল্প সম্পদ দিয়েই স্বচ্ছল জীবন গড়ে তোলে।
তাহলে প্রশ্ন ওঠে—বাস্তবিক দারিদ্র্যের মূল কারণগুলো কী? গবেষণা, সমাজবাস্তবতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে নিচে প্রধান কারণগুলো তুলে ধরা হলো।
প্রথমত, শিক্ষার অভাব দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ। পর্যাপ্ত ও মানসম্মত শিক্ষা না থাকলে মানুষের দক্ষতা গড়ে ওঠে না। দক্ষতা ছাড়া ভালো চাকরি, আয়বর্ধক কাজ বা উদ্যোক্তা হওয়া কঠিন। বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অনেক মানুষ প্রাথমিক শিক্ষা পেলেও বাস্তবমুখী ও কর্মসংস্থানভিত্তিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে দারিদ্র্যকে স্থায়ী করে তোলে।
দ্বিতীয়ত, বেকারত্ব ও অদক্ষ কর্মসংস্থান দারিদ্র্যের বড় উৎস। কাজ থাকলেও যদি তা অস্থায়ী, কম মজুরির বা অনিরাপদ হয়, তাহলে পরিবার কখনোই আর্থিকভাবে স্থিতিশীল হতে পারে না। গবেষণায় দেখা যায়, অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত মানুষের আয় অনিশ্চিত হওয়ায় তারা সহজেই দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়ে।
তৃতীয়ত, পরিকল্পনার অভাব ও আর্থিক অদক্ষতা বাস্তবিক দারিদ্র্যকে তীব্র করে। আয় থাকলেও সঠিক বাজেট না করা, অপচয়, অপ্রয়োজনীয় ভোগবাদ এবং সঞ্চয়ের অভ্যাস না থাকলে মানুষ ধীরে ধীরে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে দারিদ্র্য আসে আয় কম থাকার কারণে নয়, বরং আয় ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার কারণে।
চতুর্থত, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও চিকিৎসা ব্যয় দারিদ্র্যের নীরব কারণ। দীর্ঘমেয়াদি রোগ, দুর্ঘটনা বা পরিবারের কোনো সদস্যের অসুস্থতা একটি স্বচ্ছল পরিবারকেও দ্রুত দরিদ্র করে দিতে পারে। পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবীমা ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকলে চিকিৎসা ব্যয় মানুষকে ঋণ ও দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেয়।
পঞ্চমত, সামাজিক বৈষম্য ও সুযোগের অসম বণ্টন দারিদ্র্যকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। একই পরিশ্রম সত্ত্বেও কেউ সুযোগ পায়, কেউ পায় না—এটি দারিদ্র্যের কাঠামোগত কারণ। গ্রাম–শহর বৈষম্য, লিঙ্গ বৈষম্য এবং শ্রেণিভিত্তিক বৈষম্য বহু মানুষকে উন্নয়নের মূলধারা থেকে দূরে রাখে।
ষষ্ঠত, মানসিকতা ও আত্মবিশ্বাসের ঘাটতিও বাস্তবিক দারিদ্র্যের কারণ। দীর্ঘদিন দারিদ্র্যে থাকা মানুষ অনেক সময় চেষ্টা করাই ছেড়ে দেয়। “আমার দ্বারা হবে না”—এই ভাবনা মানুষকে অগ্রসর হতে বাধা দেয়। গবেষণায় দেখা যায়, আত্মবিশ্বাস ও লক্ষ্যনির্ধারণের অভাব দারিদ্র্য থেকে উত্তরণের পথে বড় প্রতিবন্ধক।
শৃঙ্খলার প্রয়োজনীয়তা জানতে ভিজিট করুন
সবশেষে বলা যায়, দারিদ্র্য কোনো একক কারণে সৃষ্টি হয় না। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, আর্থিক পরিকল্পনা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানসিক দৃঢ়তার সমন্বয়েই দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব। বাস্তবিক দারিদ্র্য বুঝতে হলে তাই শুধু টাকার হিসাব নয়—মানুষের সামগ্রিক জীবনব্যবস্থাকে বুঝতে হবে।



























































































